জাতীয়

র‌্যাবের নাম পাল্টে হচ্ছে এসআরবি.

Montu Mian জুন ১৫, ২০২৬ 0
র‌্যাবের নাম পাল্টে হচ্ছে এসআরবি.
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)

 


আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করে নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, “দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সুসংহতকরণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান অধ্যাদেশ ১৯৭৯’-এর অধীন গঠিত ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান’ (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে বাংলাদেশ পুলিশের সহায়ক একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে আইন করা সমীচীন।”

খসড়া আইনটি এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রস্তুতি’ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে এতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মৌলিক কোনো পরিবর্তন করা হবে না। শিগগির খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর এটা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। ভেটিংয়ের পর সেটা ফের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। নীতিগত অনুমোদনের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। বিল পাস হলেই তা পরিণত হবে আইনে


এর আগে গত মাসে র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাব বিলুপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামীদিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।’


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগে র‌্যাবকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো উপায় ছিল না। সে জন্য র‌্যাব নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। এবার বিশেষায়িত এই বাহিনীকে জবাবদিহি ও গণমুখী করার চিন্তা করছে সরকার। সে জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করা হচ্ছে। আইনে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে এই বিশেষায়িত বাহিনী জনগণের সেবায় কাজ করতে পারে। আর কোনো বিতর্কের জন্ম না দেয়।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান’ অধ্যাদেশ ১৯৭৯-এর ধারা ১৪ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারিকৃত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫ এবং এতৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা বহাল থাকবে। ওই অধ্যাদেশের অধীন র‌্যাব-এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত সম্পত্তিতে যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং এতৎসংক্রান্ত সকল দলিল এই আইনের অধীন গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান, কোনো চুক্তি, আইনগত দলিল বা চাকরির শর্তে যা কিছুই থাকুক না কেন, র‌্যাব এর সকল কর্মকর্তা ও আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী এই আইনের অধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর সদস্য হবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তারা যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর চাকুরিতে নিয়োজিত থাকবেন। উক্ত আইনের অধীন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সকল দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে, বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে এই আইনের অধীন এসআরবি-এর দায় ও দায়িত্ব এবং এর দ্বারা, এর পক্ষে বা সাথে সম্পাদিত চুক্তি বলে গণ্য হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান বা আদেশ যা উক্ত আইন রহিত হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল তা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আদেশ দ্বারা রহিত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, যতদূর পর্যন্ত এই আইনের বিধানাবলির পরিপন্থি না হয় ততদূর পর্যন্ত, কার্যকর থাকবে।

নতুন এই বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে—দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ; বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার; মাদকদ্রব্য উদ্ধার; সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন; অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা; সরকার বা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত তদন্ত বা দায়িত্ব। এ ছাড়া প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকেছে নতুন এই বাহিনীর। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, অবৈধ কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন বা আশ্রয়স্থল কিংবা সন্দেহজনক স্থান; কাউকে সন্ত্রাসী কার্য বা আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত সন্দেহ মৰ্মে; বা অবৈধ অস্ত্ৰ বা সন্ত্রাসী কর্মে ব্যবহৃত উপাদান লুকোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কোন অপরাধ; সরকার, বা মহা-পুলিশ পরিদর্শকের নির্দেশমতে, বাহিনী কোনো অপরাধস্থল বা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কার্যকর যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

এ ব্যাপারে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ কালবেলাকে বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো যখন থেকে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন থেকে আমিও র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে সবাই কথা বলতে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমার কথা হচ্ছে, র‌্যাব বিলুপ্ত নয়, সরকার নাম পরিবর্তন করতে পারে। কারণ, এই বাহিনীতে অনেক দক্ষ লোক তৈরি হয়েছে। অনেক ভালো কাজও করেছে। সে কারণে যারা এই বাহিনীর ভেতরে থেকে অপরাধ করে, তাদের বিচার হোক। সে জন্য চাই, যে নামেই বাহিনী হোক না কেন, এই বাহিনীর সদস্যদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেন নিশ্চিত করা হয়। এই বাহিনী দিয়ে আর যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’

মূলত র‌্যাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ইউনিট। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। দ্য আর্মড পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯ (সংশোধনী ২০০৪) অনুসারে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। র‍্যাবের সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত।

র‌্যাব গঠনের পর থেকেই এর কর্মকাণ্ড সমালোচনার মুখে পড়তে থাকে। এটি গঠনের পর র‍্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ঢাকায় পিচ্চি হান্নানসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা’ একের পর এক নিহত হয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে র‍্যাব। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের ভূমিকা সবাইকে অবাক করে দেয়। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র‍্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১১ জন র‍্যাব সদস্য এ খুনের ঘটনাগুলোয় জড়িয়েছিলেন। গুম-খুনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে এ সমালোচনা চলতে থাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানায়।

গত দুই দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায়। আর এসব গুম ও ক্রসফায়ারের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে র‌্যাব। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই র‍্যাব বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ ও গুরুতর আহতসহ অনেক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কে সামনে রেখে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র‍্যাবের বলপ্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের কথা উঠে আসে। ওএইচসিএইচআর ওই প্রতিবেদনে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।

এমন বাস্তবতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। গত বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র‍্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ, তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২ থেকে ২৩টি ছিল র‍্যাবের। পুলিশের বিশেষ শাখার নথিতে সাত বছরে (২০১৫-২১ সাল) ১ হাজার ৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব ঘটনার ৬৫১টিতে পুলিশ ও ২৯৩টিতে র‍্যাবের নাম এসেছে। আরও ১০টি ঘটনায় যৌথভাবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম এসেছে।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘র‍্যাব আন্তর্জাতিকভাবেই এমনভাবে নিন্দিত হয়েছে...আর দেশে তো র‍্যাব মানেই একটা দানব তৈরি করা হয়েছে। তারা যত ধরনের খুন-গুম, যত এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অধিকাংশই এই র‍্যাব বাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। সে জন্য আমরা এটিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছি।’ সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হলে জনগণের কাছে একটা ভালো বার্তা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কার না করে বিলুপ্তির পক্ষেও তখন কথা বলেছিলেন তিনি। এবার সরকার সেটাই করতে যাচ্ছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

  বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও ভাতা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার এই ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি করেছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। তাঁদের জন্যও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ২৩ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন। এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান এবং তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সর্বশেষ এই ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দ্রুততম সময়ে পাঠাতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দ্রুততম সময়ে পাঠাতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

নবম পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের

নবম পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের

মুক্তিযুদ্ধে সব শহীদের নির্ভুল তালিকা তৈরির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধে সব শহীদের নির্ভুল তালিকা তৈরির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সবাই একটি করে গাছ লাগাবে: প্রধানমন্ত্রী
সবাই একটি করে গাছ লাগাবে: প্রধানমন্ত্রী

  পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি সবাইকে একটি করে গাছ লাগানো ও সেই গাছের ভালো পরিচর্যা করার আহ্বান জানান তিনি। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা স্টল ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আনহ এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এই ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। প্রদর্শনীর স্টলগুলোতে শিশুরা তাদের নিজ নিজ এলাকার স্বতন্ত্র ঐতিহ্য, নিজেদের আঁকা ছবি, বিভিন্ন হস্তশিল্প এবং কাগজ দিয়ে তৈরি নানা ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার রেপ্লিকা প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী স্টলগুলোতে প্রবেশ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেখেই শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। প্রতিটি স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো তোমরা?’ এ সময় শিক্ষার্থীদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প দেখে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘এসব কি তোমরা বানিয়েছো?’ শিক্ষার্থীরা সমস্বরে উত্তর দেয়, ‘জি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’ প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই দারুণ সব সৃজনশীল কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। পরিদর্শনকালে শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীকে তাদের স্কুলে শিক্ষার্থীদের দৈনিক উপস্থিতি এবং খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খেলার ধরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষকরা ‘আনন্দ শিক্ষা’ ও ‘ডিজিটাল শিক্ষা’ ব্যবস্থার কার্যকারিতা তাঁর সামনে তুলে ধরেন। একটি স্টলের খুদে শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের এক মানবিক উদ্যোগের কথা শেয়ার করে। সে বলে, ‘আমরা প্রতিদিন আমাদের টিফিনের টাকা জমিয়ে অসচ্ছল বন্ধুদের সাহায্য করি। আমরা সবাই একসাথে বসে টিফিন খাই।’ কোমলমতি শিশুদের এই চমৎকার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা খুব ভালো কাজ করছো পরে ওই স্টলের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের দৈনিক পাঠ্যক্রম, ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় এবং টিফিনের সময়ের বিভিন্ন মজার অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে। সেখানে একটি শিক্ষণীয় গেম সম্পর্কে জেনে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘গেমটা তো চমৎকার!’ একটি স্টলে গিয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে করমর্দন করে প্রধানমন্ত্রী তাদের সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ার বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা বিদ্যালয়কে সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখবে। যেখানেই ময়লা দেখবে, তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে। ঠিক আছে?’ শিক্ষার্থীরাও তার এই আহবানে সানন্দে সায় দেয়। অনুরূপভাবে হবিগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘সবাই নিজেরা একটি করে গাছ লাগাবে এবং সেই গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করবে। ঠিক আছে?” এ সময় শিক্ষার্থীবৃন্দ উৎসাহের সাথে সমস্বরে বলে ওঠে, “জি স্যার।’ প্রদর্শনীর একটি স্টলে অভিনব ‘পকেট লাইব্রেরি’ দেখে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একটি খুদে শিক্ষার্থী তাকে লাইব্রেরিটির ব্যবহার ব্যাখ্যা করে বলে, ‘এই লাইব্রেরিতে লেভেল (তাক) অনুযায়ী আমাদের বই সাজানো আছে। যে শিশুটির যে বই পড়তে ইচ্ছা করবে, সে সরাসরি সেই লেভেলে গিয়ে বইটি নিয়ে পড়তে পারবে।’ এই চমৎকার চিন্তার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা খুব সুন্দর জিনিস সেট করেছ। এজন্য তোমাদের অনেক ধন্যবাদ।’ স্টলগুলো পরিদর্শনের সময় কোমলমতি শিশুদের নানারকম মিষ্টি আবদারও পূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি স্টলে শিশুরা আবদার করে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি যদি নিজের হাতে একটি টবে গাছের চারা রোপণ করে দেন, তবে সেটি আমরা স্মৃতি হিসেবে আমাদের স্কুল আঙিনায় নিয়ে লাগাবো।’ প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ হেসে রাজি হয়ে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘কোথায় তোমাদের টব ও গাছ?’ শিক্ষার্থীরা দ্রুত চারাগাছ ও টব নিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে মাটিতে চারাটি রোপণ করে দেন। বিদ্যালয়ভর্তি গাইড আরেকটি স্টলে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি তোলার যৌথ আবদার জানিয়ে বলে, ‘আমরা আপনার সাথে স্যার একটি ছবি তুলতে চাই।” প্রধানমন্ত্রী কালবিলম্ব না করে বলেন, কোনো অসুবিধা নেই। এই বলে তিনি নিজেই স্টলের ভেতরে গিয়ে শিশুদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান এবং ফ্রেমবন্দী হন। উল্লেখ্য, আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা সময় ধরে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর পরিদর্শন শেষ করেন।

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল

ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল

স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা ফিরলে তাকে স্বাগত জানাবো : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা ফিরলে তাকে স্বাগত জানাবো : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

  স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, সব মন্ত্রণালয় এক হয়ে কাজ করলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র একটি অনন্য রোল মডেল ও পজেটিভ ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সোমবার ( ১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়ন শীর্ষক পাইলট প্রজেক্ট প্রণয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও স্পেস গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো হবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশাল মাঠকর্মী বাহিনী তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করে প্রাথমিক মেডিকেল অ্যাটেনশন ও থেরাপির মাধ্যমে এই ‘শিশুস্বর্গ’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক লিঙ্কেজ বা সংযোগ তৈরি করে দেবে। ফলে চিকিৎসার সাথে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের একটি নিখুঁত সমন্বয় ঘটবে। প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান দেশে বর্তমানে ৪৬ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ডেটাবেজের আওতায় থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত ১ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার মেগা টার্গেট নিয়েছে নতুন সরকার। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে সহজ করতে কোনো দয়া বা চ্যারিটি মডেল নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে দুটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিকে অত্যন্ত হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। তিনি পরিষ্কার বলেছেন যে রাষ্ট্র এদের দয়া করছে এমন পরিবেশ তিনি চান না, বরং অন্য সব নাগরিকের মতো সমঅধিকার যেন তারা উপভোগ করতে পারেন।’ প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সভাপতিত্বে গঠিত হয়েছে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নীতি নির্ধারণ স্টিয়ারিং কমিটি’, যেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নীতিসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি করা হয়েছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে এবং সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। কমিটিগুলো গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম এবং এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় মিটিং সম্পন্ন হওয়া কাজের গতিশীলতা প্রমাণ করেছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, শীর্ষ পর্যায়ের এই সমন্বয়ের ফলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ’ বা প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে একটি ‘কনভেয়ার বেল্ট’ বা রিলে রেসের সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী শিশু যখন জন্মায়, তখন তার এক ধরণের চিকিৎসা ও থেরাপির প্রয়োজন হয়। ৬ বছর বয়সে তার চাহিদা ভিন্ন হয়, ১২ বছর বয়সে প্রতিবন্ধী কিশোরীর প্রয়োজন আলাদা এবং যৌবনে তার দরকার কর্মসংস্থান। জন্ম থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে এবং কনভেয়ার বেল্টের মতো ধাপে ধাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তার চাহিদা পূরণ করবে।

News জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ, তদারকি ও প্রতিক্রিয়া—সবই হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ, তদারকি ও প্রতিক্রিয়া—সবই হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments