আওয়ামী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পর উপদেষ্টা আদিলুরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হয়ে প্রভাব-বাণিজ্যের অভিযোগ, নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় ।
সরকারের যতগুলো প্রতিষ্ঠান-মন্ত্রণালয় দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে দুর্নীতির মহোৎসবে পরিণত হয়েছিলো তার মধ্যে অন্যতম গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়। হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবরের পাশাপাশি এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের হাজারো অভিযোগ নিয়ে অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'।
সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমানের ভিত্তিতে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন একদিকে যেমন সমাজের নানা স্তরে দুর্নীতি-অনিয়মের নিত্যনতুন কৌশল উন্মোচিত করেছে ঠিক তেমনি অসংখ্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর রাতের ঘুমও হারাম করেছে। তবে, আজ চিরাচরিত পন্থার বিপরীতে ভিন্নধর্মী একটি প্রতিবেদন এফটি পরিবারের সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো।
গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের অসাধারণ সৌভাগ্যবান একজন কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বিতর্কিত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানেরও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পরও গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের 'ব্যক্তিগত কর্মকর্তা'র মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পদে বহাল থাকার বিরল এক দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে যখন সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা'র প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. সোহেল মিয়াকে ঘিরে উঠেছে নানা গুরুতর অভিযোগ। পদায়ন, বদলি, টেন্ডার, প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দ, জমি ও বাড়ি দখলসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল উপদেষ্টার দপ্তরে উপস্থাপনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন সোহেল। বিনিময়ে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তার অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন নিয়ে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক বছরের সরকারি চাকরির সময়ে তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে। এসব সম্পদের বড় অংশই বাবা, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
রিকশাচালক বাবার নামে ফ্ল্যাট-গাড়ি
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিরপুর-১৬ নম্বর সেকশনের ১ হাজার ৩৫৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট সংরক্ষিত প্রতিমন্ত্রী কোটায় সোহেল মিয়ার বাবা মো. ফজলুল হকের নামে বরাদ্দ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফজলুল হক দীর্ঘদিন রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এমন একজন ব্যক্তির নামে রাজধানীর মিরপুরে সংরক্ষিত কোটায় ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এরপর ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর ফজলুল হকের নামে ১ হাজার ৫০০ সিসির একটি জাপানি টয়োটা ব্র্যান্ডের সাদা প্রাইভেট কার কেনা হয়। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-২৯-১৩৬৫।
সোহেলের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, এর বাইরে আরও একটি দামি গাড়ি রয়েছে তার।
চাকরির এক বছরের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
সোহেল মিয়া ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এর মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা থেকে ‘মেসার্স নেক্সাস এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে নাম রয়েছে সোহেলের বাবা মো. ফজলুল হকের। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স নম্বর ০০৭৫১ এবং লাইসেন্স আইডি ০৫-০০৫-০০৭৫১। ফজলুল হকের টিআইএন নম্বর ৮৫২৮৫২৬২১৪৮৫ এবং প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর ০০২২৩৪৯০৪-০৪০৬।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কালিহাতীর একটি বেসরকারি ব্যাংকে নেক্সাস এন্টারপ্রাইজের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবে ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৪ টাকা ব্যালেন্স ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার!
বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও একটি প্রশ্ন। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নেক্সাস এন্টারপ্রাইজকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
কালিহাতীতে জমি, মার্কেট ও বিলাসবহুল বাড়ি
সোহেল মিয়ার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌর এলাকায়। স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে এফটি টীম তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়েছে।
হাসপাতাল রোডে সোনালী ব্যাংকের পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জমি তার বাবার নামে কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী প্রতি শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মার্কেট নির্মাণে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এই ব্যয়ের পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কালিহাতীর ফকিরবাড়ি রোডের কাছে সোহেলের ছোট ভাই আনোয়ারের জন্য একটি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
এর কাছেই রয়েছে একটি বিলাসবহুল বাড়ি। বাড়িটির নাম ‘ফজলুল হক ভিলা’। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—হোল্ডিং-৩৮৫, রোড নম্বর-৫, সাতুটিয়া পূর্বপাড়া, কালিহাতী, টাঙ্গাইল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পরপরই সোহেল মিয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন জায়গায় জমি কেনার পাশাপাশি বাবা, ভাই, শ্বশুর, সম্বন্ধী ও স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।
ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ
সোহেল মিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি কালিহাতী আরএস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি, ২০০৬ সালে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেন।
এরপর ২০১৬ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে টাঙ্গাইলের একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে ছয় মাস মেয়াদি কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স এবং একই সময়ে বগুড়ার ইনস্টিটিউট অব আইসিটির অধীনে ছয় মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মাল্টিল্যাংগুয়াল সেক্রেটারিয়াল সায়েন্স কোর্স সম্পন্ন করার সনদ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু অনুসন্ধানে এসআইটি ফাউন্ডেশনের অফিস রেজিস্টারে সোহেল মিয়ার নামে সংশ্লিষ্ট সনদের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সনদে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সনদের স্বাক্ষরের মিল নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এমনকি একই সময়ে টাঙ্গাইল ও বগুড়া—দুই জায়গায় ছয় মাস মেয়াদি কোর্স করার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরও অভিযোগ, টাঙ্গাইলের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভর্তি রেজিস্টারেও তার নাম পাওয়া যায়নি; যদিও অনলাইনে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে তার মার্কশিট দেখা গেছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।
এই কারণে প্রশ্ন উঠেছে—চাকরিতে নিয়োগের সময় সোহেল মিয়া যে সনদ ব্যবহার করেছিলেন, সেটি আদৌ বৈধ ও প্রকৃত কি না?
এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নথি পরীক্ষা করে বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।
ছয় বছরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, এরপর প্রভাবের বিস্তার?
সোহেল মিয়া ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
এরপর ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে তাকে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে পদায়ন করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান।
এরপর থেকেই তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
টেন্ডার, বদলি, প্লট, ফ্ল্যাট—সবখানেই কি সোহেলের প্রভাব?
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে উপদেষ্টার দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সোহেল মিয়া অবগত থাকতেন।
বিশেষ করে—গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন, রাজউকের প্লট ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিষয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বড় অঙ্কের টেন্ডার, ঠিকাদারি কাজ, প্রকল্প অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট ফাইল নিয়ে তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কাজে বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা আদায়ের একটি চক্র তৈরি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
বেতনের সঙ্গে সম্পদের হিসাব মেলে কি?
সোহেল মিয়া যখন সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, তখন তার পদ ছিল সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর। ওই পদের বেতন স্কেল ছিল ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা।
প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চাকরির প্রথম কয়েক বছরে তার সরকারি বেতন ও সুযোগ-সুবিধার মোট পরিমাণ আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে।
অন্যদিকে, তার পরিবারের নামে মিরপুরের ফ্ল্যাট, গাড়ি, কালিহাতীতে জমি, মার্কেট, বাড়িসহ বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এত অল্প সময়ে এসব সম্পদ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে কীভাবে?
সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস, ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই করলেই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।
সম্পদের মালিক বাবা-ভাই, নিয়ন্ত্রণ কার?
অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো—সোহেল মিয়ার পরিবারের নামে থাকা সম্পদের একটি বড় অংশ তার বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে রয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ফজলুল হকের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে বর্তমান সম্পদের পরিমাণের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার প্রশ্ন—“ফজলুল হক তো রিকশা চালাতেন। ছেলে চাকরি পাওয়ার পর এত সম্পদের মালিক কীভাবে হলেন?”
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন সম্পদের মালিকদের আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, জমির দলিল এবং অর্থের উৎস যাচাই।
অভিযোগের বিষয়ে সোহেলের বক্তব্য কী?
এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. সোহেল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ফলে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বক্তব্য দিলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসন কি নীরব দর্শক?
একজন সরকারি কর্মচারী মাত্র কয়েক বছরের চাকরিতে কীভাবে তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুললো, তার অর্থের উৎস কী, সরকারি চাকরির পাশাপাশি পরিবারের নামে ঠিকাদারি ব্যবসা কীভাবে পরিচালিত হলো, নিয়োগের সময় ব্যবহৃত শিক্ষাগত সনদ কতটা বৈধ—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি।
একইসঙ্গে টেন্ডার, বদলি, পদায়ন, প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের দাবি রাখে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য।
গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হলো, তখন একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা এতগুলো অভিযোগ দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান? এর চেয়েও বড় প্রশ্ন—রিকশাচালকের ছেলে সোহেল মিয়ার বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী?
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-১)। এ ঘটনায় ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন—ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয় (২৭), বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৭) ও মো. সিফাত (২০), গাজীপুরের মো. রুবেল মিয়া (২৭) এবং বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া মির্ধাপাড়া গ্রামের মো. ফুরকান হোসেন (১৯)। রোববার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত দিয়ে মাদক অনুপ্রবেশ ও এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
২০২৪ সালের ২৫ জুন রাতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের খাবার বগিতে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার ক্যাটারিং কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। একই সাথে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ২৯ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। তবে গুরুতর এই অপরাধ সত্ত্বেও অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ করপোরেশন’ এর ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ বিচার শেষ হওয়ার আগেই তুলে নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ—যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহল। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। গত ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ও ৩০ ধারায় চার্জ গঠন করেন। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে মামলাটির আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। মামলার বেঞ্চ সহকারী মো. পারভেজ জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত চার আসামিরা হলেন, মো. জামাল (২৯), রাশেদুল হক প্রকাশ রাশেদুল ইসলাম (২৮), শরিফ মিয়া (২১), আবদুর রব রাসেল (২৮) অভিযুক্ত চারজনই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ কর্পোরেশন’র কর্মরত কর্মী ছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ জুন রাতে এক তরুণী টিকিট না পেয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের খাবার বগিতে বসেন। ট্রেন চলার পর থেকেই এস এ করপোরেশনের কর্মীরা তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সাধারণ যাত্রীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে অভিযুক্তদের বাধা দেন। তবে ২৬ জুন ভোরের দিকে খাবার বগিতে যাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেলে অভিযুক্ত কর্মীরা ওই তরুণীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ যাত্রীদের সহায়তায় রেলওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ট্রেন থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা, রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক এস এম শহীদুল ইসলাম তদন্ত শেষে আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য, ডিএনএ টেস্টের ফলাফল ও বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিচার শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার শাহ আলমের ‘এস এ কর্পোরেশনের’ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার—ক্ষোভ! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদয়ন এক্সপ্রেস এবং একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে এস এ করপোরেশনের খাবার সরবরাহ ও ক্যাটারিং সেবা চুক্তি স্থগিত করেছিল। তবে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হতেই কেবল ‘ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না’ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের এমন মৌখিক ও লিখিত প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ তুলে নেয় রেলওয়ে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ধর্ষণকাণ্ডের পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে আবেদন করায় তাদের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস এ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আইনবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, চলন্ত ট্রেনে এমন জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা এক ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল। এর ফলে রেলে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চরম গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক। এ বিভাগের আওতাধীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিকের পারিবারিক পটভূমি চুয়াডাঙ্গার আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম মো. রেজাউল হক মালিকের (মুকুল) সন্তান। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি রেজাউল হক মালিক মারা যান। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হক মালিক স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতা ছিলেন। তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলির জন্য লটারি আয়োজন করা হয়। ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিককে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গণপূর্তের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের আওতাধীন সরকারের সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্বৈরাচারের দোসর পরিবারের সন্তানের কবজায় যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।