জাতীয় সংসদে ঘোষিত অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনের এই হিসাব দেশের আর্থিক খাতের এক ভয়াবহ ও জঘন্য বাস্তবতাকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে। এককভাবে জনতা ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা মোট রাষ্ট্রায়ত্ত খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া অগ্রণী, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার মন্দ ঋণ প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অপশাসন এবং চরম অব্যবস্থাপনার শিকার।
দেশের জনগণের করের টাকায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোর এই দশা কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বণ্টন, ভুয়া জামানত, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের তোষণ এবং দুর্বল তদারকির অনিবার্য ফল। বিশেষ করে কোনো কোনো একক ব্যাংকে এত বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুঞ্জীভূত হওয়ার অর্থ হলো—সেখানে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবে ব্যাংকিং খাতে যে ‘ঋণ খেলাপি অপসংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে, তার মাসুল এখন গুনতে হচ্ছে পুরো দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণকে।
খেলাপি ঋণের এই বিশাল বোঝার কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা মেটাতে শেষ পর্যন্ত সরকারি তহবিল অর্থাৎ জনগণের পকেটের টাকা ব্যবহার করতে হয়। এতে শুধু ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ ক্ষমতাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির গতিও থমকে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে এই হিসাব পেশ করে দায়িত্ব শেষ করতে পারেন না। আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে বিশেষ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রথমত, যেসব বড় বড় অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপির কারণে ব্যাংকের এই করুণ অবস্থা, তাদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত আইনি আওতায় আনতে হবে। বিশেষ ঋণ আদালত বা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে খেলাপি অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিশেষে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও স্বাধীন পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনা ছাড়া এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো বিকল্প নেই।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
গোলাম রব্বানী শিপন, বগুড়াঃ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং তাদের মেধা বিকাশে অনুপ্রেরণা জোগাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহমূলক শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশন’। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে করতকোলা জোনাব আলী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও করতকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন ও বর্তমান সভাপতি তাবরিজ আহম্মেদ, সহ-সভাপতি রিজু ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মারজান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজ বাবু ফিরোজ, কোষধ্যক্ষ আবু সায়েম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসলামুল হক সাগর এবং সদস্য শাহ আলম, মোমিন, বাঁধন, নয়ন, শুভসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সভাপতি তাবরিজ আহম্মেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা ও প্রতিভাকে বিকশিত করতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর ভালো ও খারাপ, দুই দিকই আমাদের অনুধাবন করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগী হতে হবে।” তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে করতকোলা জোনাব আলী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও করতকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এভাবে উৎসাহিত করা হলে তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এমন মানবিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তারা সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সাহারানপুর জেলায় রাতের অন্ধকারে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সাহারানপুর কালেক্টরেটের ভেতরে অবস্থিত ‘গরিব নওয়াজ আল মারুফ’ নামে মসজিদটি গুড়িয়ে দেয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কালেক্টরেট চত্বরের প্রবেশপথও নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ৩১৫ বর্গমিটার জমি, যা রাজস্ব নথিতে কালেক্টরেটের সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত বলে আদালতে জানানো হয়। ২০২৫ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর সাবেক এক নেতা অভিযোগ করেন, কালেক্টরেট চত্বরে সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি ও ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং গত মার্চ মাসে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন স্থাপনা’ আখ্যা দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালি করার নির্দেশ দেন। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি বহু পুরোনো—প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রয়েছে এবং জমির মালিকানা নিয়ে তাদের পক্ষে নথিও রয়েছে। তারা সরকারি পক্ষের জমির মালিকানা দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে। মসজিদের মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) তানভীর আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মসজিদটি ব্রিটিশ আমল থেকে, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ বছর ধরে সেখানে রয়েছে। ঐতিহাসিক নথিতে ১৯১১ সালে এই মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার প্রমাণও রয়েছে, যা কালেক্টরেট ভবন তৈরিরও আগের। গত ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ হিসেবে বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রিমাইসেস (অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ) আইন, ১৯৭২-এর আওতায় উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে জেলা আদালতে আপিল করেছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা আদালত সেই আপিল খারিজ করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আগের আদেশ বহাল রাখে। তবে আদালতের আদেশে সরাসরি মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ ছিল না; সেখানে আগের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশই বহাল রাখা হয়। আদালত সেই আপিল খারিজ করে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোরের আলো ফোটার আগেই মসজিদটি ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন।
মোঃ জাকির খান টাঙ্গাইল। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত জাতীয় "দৈনিক মজলুমের কন্ঠ" ৩১ বছর পেরিয়ে ৩২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)২০২৬ ইং তারিখে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কেক কাটা ও মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় । এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি "সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু", সহ-সভাপতি এস এম আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী সদস্য, মোঃ পলাশ ইসলাম, মোঃ জাহিদ সরকার, মোঃ কোভিদ হোসেন,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রিন্স এডওয়ার্ড মানসাং, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ তুহিন সহ আরো অনেকেই,,,