এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ২০২৫ কার্যনির্বাহী কমিটির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের এক বছরে তিনি ডাকসু বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ বা উত্তোলন করেননি। বরং বরাদ্দ সংকটের কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বিভিন্নজনের সহযোগিতায় অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে গত এক বছরে নিজের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরেন মুসাদ্দিক। লিখেন, ‘ডাকসু দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ৩৬৫ দিনে প্রতিদিন কি করেছি– তা দিনলিপি হিসেবে একটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করার অভিপ্রায় রয়েছে, আমি শীঘ্রই সেটি প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ।’ তুলে ধরেন নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্যও। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার দায়িত্বের প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হয়।
মুসাদ্দিক লিখেন, ‘গত এক বছর শুধু পাগলপ্রায় হয়ে ছুটে গিয়েছি, দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কাজ করতে গিয়ে অনেক রাত ঘুমানোর সুযোগ পাইনি। শুধু নিজের আত্মসম্মান এবং আমার উপর শিক্ষার্থীরা যে আস্থা রেখেছেন, সেটির রক্ষার তাগিদে প্রতিটি মুহুর্তকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। পরিচিত ও অপরিচিত অনেক শিক্ষার্থী, বন্ধু, সিনিয়র ভাই ও আপু, ছোট ভাই, ছোট বোন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, আমার জন্য ভোট চেয়েছেন। আমি তাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তার ভাষায়, ‘আমি সবসময়ই এই বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম যে, আমার জন্য যারা এত পরিশ্রম করেছেন, দিন শেষে বিজয়ী হওয়ার পর যদি আমি তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি–যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে আমার পক্ষে ভোট চেয়েছেন–তাহলে তাঁদের মুখ কালিমালিপ্ত হবে; তারা তাদের নিজ নিজ সার্কেলে আমার কারণে ছোট হবে। আমার সহপাঠী, ছোট ভাই, ছোট বোন ও সহযোদ্ধারা যে আস্থা ও সম্মান নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সেই সম্মান রক্ষা করা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে কারণেই আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, যেন মেয়াদকাল শেষে অন্তত শিক্ষার্থীরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, সেই আস্থাটুকু অক্ষুণ্ন রেখে তাঁদের প্রত্যাশার প্রতি সুবিচার করে দায়িত্বটি শেষ করতে পারি। তার জন্য গত একবছর আমি এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করিনি। প্রতি মুহূর্তই শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়াতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছি, তারপরও থামিনি, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টা করে গিয়েছি অব্যাহতভাবে।’
ডাকসুর উদ্যোগের প্রকাশিত গ্রন্থডাকসু নেতা লিখেন, ‘আমি আশা করেছিলাম যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিচার করবে। ১৯–এর ডাকসু তো শিক্ষার্থীবিরোধী ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সময় হয়েছিল, তারপরেও সেই ফ্যাসিবাদী প্রশাসন ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ডাকসুকে বরাদ্দ দিয়েছিল এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দিয়েছিল মোট ৩০ লক্ষ টাকা। অথচ এবারের ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে মাত্র দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি কিছু টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে বলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমার কাছে মনে হয়েছিল এই অপমানজনক বরাদ্দ যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে তারা যে প্রতারণামূলকভাবে সাহিত্য–সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে একটা ভিক্ষামূলক বরাদ্দ দিয়েছে, সেটিকে বৈধতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আমার দাবি ছিল বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে বাজেট পাশ হতে হবে এবং বিগত ৩৫ বছর (১৯ এর ডাকসু আগের ২৮ বছর এবং পরের ৬ বছর এবং ১৯–সহ মোট ৩৫ বছর) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডাকসু বাবদ যে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, সেই চাঁদার টাকার হিসাব দিতে হবে এবং ১৯ এর ডাকসুকে দেওয়া ১.৮৪ কোটি টাকার বরাদ্দের অডিট সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে আমি বাজেট গ্রহণ করব না, আমাদেরকে যে বরাদ্দ দেওয়া হবে সেটাও গ্রহণ করব না। সেজন্য আমি এই বরাদ্দটি গ্রহণ করিনি। এই বাজেটকে অনুমোদনও করিনি। ডাকসুর ফান্ড থেকে আমি একটি টাকাও উত্তোলন করিনি।’
মুসাদ্দিক লিখেন, দীর্ঘদিন আমরা অপেক্ষা করেছি; আন্দোলন করেছি যে, প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হবে এবং সম্মানজনক বরাদ্দ আমরা পাব, কিন্তু পাইনি। যে কারণে আমাদের প্রতিটা কাজই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ম্যানেজ করে করতে হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে আমরা অনেকগুলো প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলাম, অনেকগুলো পত্রিকা প্রকাশ ও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলাম। ফান্ড ক্রাইসিস এর কারণে সেগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারিনি। যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, যে লেখালেখির আহ্বান করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, সেই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বা সেই লেখাটি প্রকাশ করতে আমাদের সেপ্টেম্বর মাস অর্থাৎ ৮ মাস লেগে গেছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার একমাত্র কারণ ছিলো ফান্ড সংকট।তিনি আরও লিখেন, ‘আমি বিভিন্ন ছোট–বড় মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় দেড়শতের মতো একক আয়োজন গত এক বছরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে করেছি। এর মধ্যে প্রকাশনা বের করেছি প্রায় ২৮টির মতো। এর বাইরে অসংখ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সকল আয়োজনে সকলের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে।’
স্ট্যাটাসের নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্য উল্লেখ করেন মুসাদ্দিক। এর মধ্যে রয়েছে– ১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০১ আভাস ২. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০২ প্রকাশ ৩. সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর এর শাহাদাৎ বার্ষিকী– ২০২৫ উপলক্ষ্যে স্মারকগ্রন্থ “তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা থেকে জুলাইয়ের নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধ” ৪. ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা শহিদ ফেলানী ৫. শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস স্মারকগ্রন্থ– ২০২৫ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার ৬. ‘মানুষের এ মিছিলে দিতে পারো যদি গতিবেগ’ কবি ফররুখ আহমদ: পাঠ ও প্রাসঙ্গিকতা ৭. ২৮ অক্টোবর প্রেক্ষিত লগি–বৈঠার লাশতন্ত্র থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ৮. ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৯. ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহিদ আবরার ফাহাদ ১০. অবাঙালি অর্থাৎ চাকমা, মারমা, সাাঁওতাল ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্মারক গ্রন্থ– ২০২৬ বহুমাত্রিক ১১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০৩ প্রতিভাস ১২. গেস্টরুম–গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান ১৩. শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন বারুদমাখা কথামালা ১৪. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য গেস্টরুম–গণরুম এর বই এর ব্রেইল ভার্সন। ১৫. ক্যাম্পাসে দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নিভে যাওয়া জীবন প্রদীপ স্মারক গ্রন্থ–২০২৫ রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৬. ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারক–২০২৫ হাতেখড়ি ১৭. নবাব সলিমুল্লাহ স্মারক গ্রন্থ– ২০২৬ ইশারাত মনজিল ১৮. জুলাই বিপ্লব গল্প সংকলন ‘মহাকালের মর্সিয়া’ ১৯. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে লেখা জুলাই– জনতার অভ্যুত্থান ২০. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: শ্রাবণের কান্না ২১. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ধূসর কৃষ্ণচূড়া ২২. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ব্যারিকেডের ওপারে ২৩. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তাক্ত কোটায় কৃষ্ণচূড়া ২৪. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে ভেজা জুলাই. ২৫. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লস্করহাট ২৬. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লাল জুলাইয়ের দিনগুলো ২৭. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ইলিশ ফাইল ২৮. এফ আর হলে হল সংসদের সাথে যৌথভাবে দেয়াল পত্রিকা স্থাপন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ২০২৫ কার্যনির্বাহী কমিটির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের এক বছরে তিনি ডাকসু বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ বা উত্তোলন করেননি। বরং বরাদ্দ সংকটের কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বিভিন্নজনের সহযোগিতায় অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে গত এক বছরে নিজের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরেন মুসাদ্দিক। লিখেন, ‘ডাকসু দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ৩৬৫ দিনে প্রতিদিন কি করেছি– তা দিনলিপি হিসেবে একটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করার অভিপ্রায় রয়েছে, আমি শীঘ্রই সেটি প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ।’ তুলে ধরেন নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্যও। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার দায়িত্বের প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হয়। মুসাদ্দিক লিখেন, ‘গত এক বছর শুধু পাগলপ্রায় হয়ে ছুটে গিয়েছি, দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কাজ করতে গিয়ে অনেক রাত ঘুমানোর সুযোগ পাইনি। শুধু নিজের আত্মসম্মান এবং আমার উপর শিক্ষার্থীরা যে আস্থা রেখেছেন, সেটির রক্ষার তাগিদে প্রতিটি মুহুর্তকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। পরিচিত ও অপরিচিত অনেক শিক্ষার্থী, বন্ধু, সিনিয়র ভাই ও আপু, ছোট ভাই, ছোট বোন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, আমার জন্য ভোট চেয়েছেন। আমি তাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ তার ভাষায়, ‘আমি সবসময়ই এই বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম যে, আমার জন্য যারা এত পরিশ্রম করেছেন, দিন শেষে বিজয়ী হওয়ার পর যদি আমি তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি–যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে আমার পক্ষে ভোট চেয়েছেন–তাহলে তাঁদের মুখ কালিমালিপ্ত হবে; তারা তাদের নিজ নিজ সার্কেলে আমার কারণে ছোট হবে। আমার সহপাঠী, ছোট ভাই, ছোট বোন ও সহযোদ্ধারা যে আস্থা ও সম্মান নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সেই সম্মান রক্ষা করা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে কারণেই আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, যেন মেয়াদকাল শেষে অন্তত শিক্ষার্থীরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, সেই আস্থাটুকু অক্ষুণ্ন রেখে তাঁদের প্রত্যাশার প্রতি সুবিচার করে দায়িত্বটি শেষ করতে পারি। তার জন্য গত একবছর আমি এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করিনি। প্রতি মুহূর্তই শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়াতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছি, তারপরও থামিনি, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টা করে গিয়েছি অব্যাহতভাবে।’ ডাকসুর উদ্যোগের প্রকাশিত গ্রন্থডাকসু নেতা লিখেন, ‘আমি আশা করেছিলাম যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিচার করবে। ১৯–এর ডাকসু তো শিক্ষার্থীবিরোধী ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সময় হয়েছিল, তারপরেও সেই ফ্যাসিবাদী প্রশাসন ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ডাকসুকে বরাদ্দ দিয়েছিল এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দিয়েছিল মোট ৩০ লক্ষ টাকা। অথচ এবারের ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে মাত্র দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি কিছু টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে বলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমার কাছে মনে হয়েছিল এই অপমানজনক বরাদ্দ যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে তারা যে প্রতারণামূলকভাবে সাহিত্য–সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে একটা ভিক্ষামূলক বরাদ্দ দিয়েছে, সেটিকে বৈধতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আমার দাবি ছিল বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে বাজেট পাশ হতে হবে এবং বিগত ৩৫ বছর (১৯ এর ডাকসু আগের ২৮ বছর এবং পরের ৬ বছর এবং ১৯–সহ মোট ৩৫ বছর) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডাকসু বাবদ যে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, সেই চাঁদার টাকার হিসাব দিতে হবে এবং ১৯ এর ডাকসুকে দেওয়া ১.৮৪ কোটি টাকার বরাদ্দের অডিট সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে আমি বাজেট গ্রহণ করব না, আমাদেরকে যে বরাদ্দ দেওয়া হবে সেটাও গ্রহণ করব না। সেজন্য আমি এই বরাদ্দটি গ্রহণ করিনি। এই বাজেটকে অনুমোদনও করিনি। ডাকসুর ফান্ড থেকে আমি একটি টাকাও উত্তোলন করিনি।’ মুসাদ্দিক লিখেন, দীর্ঘদিন আমরা অপেক্ষা করেছি; আন্দোলন করেছি যে, প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হবে এবং সম্মানজনক বরাদ্দ আমরা পাব, কিন্তু পাইনি। যে কারণে আমাদের প্রতিটা কাজই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ম্যানেজ করে করতে হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে আমরা অনেকগুলো প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলাম, অনেকগুলো পত্রিকা প্রকাশ ও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলাম। ফান্ড ক্রাইসিস এর কারণে সেগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারিনি। যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, যে লেখালেখির আহ্বান করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, সেই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বা সেই লেখাটি প্রকাশ করতে আমাদের সেপ্টেম্বর মাস অর্থাৎ ৮ মাস লেগে গেছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার একমাত্র কারণ ছিলো ফান্ড সংকট।তিনি আরও লিখেন, ‘আমি বিভিন্ন ছোট–বড় মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় দেড়শতের মতো একক আয়োজন গত এক বছরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে করেছি। এর মধ্যে প্রকাশনা বের করেছি প্রায় ২৮টির মতো। এর বাইরে অসংখ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সকল আয়োজনে সকলের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে।’ স্ট্যাটাসের নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্য উল্লেখ করেন মুসাদ্দিক। এর মধ্যে রয়েছে– ১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০১ আভাস ২. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০২ প্রকাশ ৩. সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর এর শাহাদাৎ বার্ষিকী– ২০২৫ উপলক্ষ্যে স্মারকগ্রন্থ “তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা থেকে জুলাইয়ের নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধ” ৪. ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা শহিদ ফেলানী ৫. শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস স্মারকগ্রন্থ– ২০২৫ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার ৬. ‘মানুষের এ মিছিলে দিতে পারো যদি গতিবেগ’ কবি ফররুখ আহমদ: পাঠ ও প্রাসঙ্গিকতা ৭. ২৮ অক্টোবর প্রেক্ষিত লগি–বৈঠার লাশতন্ত্র থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ৮. ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৯. ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহিদ আবরার ফাহাদ ১০. অবাঙালি অর্থাৎ চাকমা, মারমা, সাাঁওতাল ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্মারক গ্রন্থ– ২০২৬ বহুমাত্রিক ১১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০৩ প্রতিভাস ১২. গেস্টরুম–গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান ১৩. শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন বারুদমাখা কথামালা ১৪. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য গেস্টরুম–গণরুম এর বই এর ব্রেইল ভার্সন। ১৫. ক্যাম্পাসে দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নিভে যাওয়া জীবন প্রদীপ স্মারক গ্রন্থ–২০২৫ রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৬. ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারক–২০২৫ হাতেখড়ি ১৭. নবাব সলিমুল্লাহ স্মারক গ্রন্থ– ২০২৬ ইশারাত মনজিল ১৮. জুলাই বিপ্লব গল্প সংকলন ‘মহাকালের মর্সিয়া’ ১৯. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে লেখা জুলাই– জনতার অভ্যুত্থান ২০. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: শ্রাবণের কান্না ২১. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ধূসর কৃষ্ণচূড়া ২২. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ব্যারিকেডের ওপারে ২৩. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তাক্ত কোটায় কৃষ্ণচূড়া ২৪. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে ভেজা জুলাই. ২৫. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লস্করহাট ২৬. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লাল জুলাইয়ের দিনগুলো ২৭. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ইলিশ ফাইল ২৮. এফ আর হলে হল সংসদের সাথে যৌথভাবে দেয়াল পত্রিকা স্থাপন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সম্মত হয়েছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর আমন্ত্রণে তিনি এ সম্মতি জানান। সোমবার (৩১ আগস্ট) বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন। সাক্ষাৎকালে উপাচার্য নোবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে নোবিপ্রবির অবদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিতব্য নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানান। রাষ্ট্রপতির এ সম্মতিতে নোবিপ্রবি পরিবার আনন্দিত ও গর্বিত বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তার উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় করে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় ৩৮৯টি বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩০০টি বিদ্যালয় অতি দুর্গম এলাকায়। বিদ্যুৎ সরবরাহের সুব্যবস্থা হলে বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। এমন বাস্তবতায় এসব বিদ্যুৎবিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিশাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি জেলার অতি দুর্গম এসব বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগের কথা ভাবছে সরকার। এ বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক। বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী পাঁচ বছরে অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। তবে আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করে বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাস হওয়ার পর প্রকল্পগুলোর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে কাজ করবে সরকার। এসব কাজে মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসন মূল তদারকি করবে। এখনও এই প্রকল্পগুলো উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) স্থান পায়নি। জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এ প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। দুর্গম এলাকার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পরিবার দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে তারা দেশের অগ্রগামী বিদ্যালয়গুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ৫৫০টি বিদ্যালয়ে টিভি ও মাল্টিমিডিয়া সংযোগ রয়েছে। ১৪৯টি বিদ্যালয় ই-লার্নিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প (৩য় পর্যায়ে) করতে সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত বা বরাদ্দহীন প্রকল্প হিসেবে একটি প্রস্তাব নথিভুক্ত হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত এসব প্রকল্পকে ‘সবুজ পাতা প্রকল্প’ বলা হয়। এটি ভবিষ্যৎ কাজের নীতিগত সম্মতি বা প্রাথমিক তালিকা, যা পরে অনুমোদন পেলে মূল কার্যক্রম বা ডিপিপিতে স্থান পায়। তিনি আরও বলেন, যদি প্রকল্পটি ডিপিপিতে স্থান পায়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থাৎ পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। এটি ২০২৬ সালে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০৩১ সালে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ত্বরান্বিত করা যাচ্ছে না এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একইসাথে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পিছিয়ে পড়ছে এই অঞ্চল। ফলে নতুন করে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যেতে পারে। চলতি বছরের মে মাসে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগ সম্পর্কিত বিষয়াবলিতে রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ের ৩০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব আসে। পরে এটির বাস্তবসম্মত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কাজের অগ্রগতি জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ দীর্ঘ মেয়াদে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপনের পক্ষে মতামত তুলে ধরেছে।