ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর আদি জন্মস্থান ও দেশের বাড়ি হলো সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামে।
মাত্র ১১ বছর বয়সে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো এই তাসবিরুল লন্ডনের ‘ফোর্ট লোটন হাই স্কুল’ ও ‘হ্যাকনি কলেজ’ থেকে এ-লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড এভিয়েশন’ থেকে বিমান চালনার প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু করেন।
পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউকের সিভিল এভিয়েশন থেকে কমার্শিয়াল লাইসেন্স পেয়ে তিনি আমেরিকার আকাশে এবং দেশে ফিরে বেক্সিমকোর জিএমজি এয়ারলাইনসের প্রধান পাইলট হিসেবে দাপটের সাথে বিমান চালানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।
২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ’ ব্যবসাটি চালু করা হয়েছিল।. পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাসবিরুল সিন্ডিকেট রাতারাতি খোলস বদলে ওবায়দুল কাদের ও সালমান এফ রহমানদের প্রভাবশালী এভিয়েশন সিন্ডিকেটের সাথে হাত মেলায়।
. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পেছনে মোটা অঙ্কের নগদ ঘুষ ঢেলে শেয়ার বাজারে এই মহাজালিয়াতি সফল করতে তাসবিরুলকে সরাসরি বুদ্ধি ও ছক দিয়ে সাহায্য করেছিলেন তাঁর স্ত্রী, সিলেটেরই আরেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশী খন্দকার তাসলিমা চৌধুরী।
. সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও ক্ষোভের আসল জায়গা হলো এই দুই চোরের ঠিকানা; বাংলাদেশে থাকাকালীন এই তাসবিরুল দম্পতির রাজকীয় আস্তানা ছিল রাজধানী ঢাকার অতি অভিজাত উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িতে (৫ম তলা)।. দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া বানাতে এবং নিজেদের সিলেট অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এক পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শত শত কোটি টাকা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে নিজেদের পকেটে ভরে নেন।
. দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিমানের ভুয়া পার্টস ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ভুয়া খরচ দেখিয়ে এই তাসবিরুল দম্পতি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে মধ্যপ্রাচ্যের অতি বিলাসী দেশ দুবাইয়ের জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেল এলাকায় নিজের নামে ৭টি আলিশান অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট কিনেছেন।
. আজ দেশের সাধারণ মানুষ যখন একবেলা খাবারের জন্য হাহাকার করছে, তখন এই শীর্ষ অর্থ পাচারকারী ও চরম বেইমান তাসবিরুল বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে সুদূর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।
. যুক্তরাজ্যের ল্যান্ড রেজিস্ট্রি এবং কোম্পানি হাউজের অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি লন্ডনের হ্যাকনি বরোর অভিজাত আবাসিক এলাকা ‘স্টোক নিউইংটন’ (N16 7SL)-এর বিলাসভহুল ফ্ল্যাটে সস্ত্রীক নিরাপদ আশ্রয় বানিয়েছেন।
. কালো টাকা সাদা করার আড়ালে লন্ডনে তাঁর গড়া সুগন্ধি ব্যবসা "TAC PERFUMES & COSMETICS (UK) LTD" (মূল শোরুম: 12 Railway Street, Chatham) এখনও সেখানে সম্পূর্ণ সচল ও লাভজনকভাবে চালানো হচ্ছে।
. এই সুগন্ধি ব্র্যান্ডের আড়ালেই সেন্ট্রাল লন্ডনের অতি দামী কমার্শিয়াল জোন ‘সিটি রোড’ (128 City Road)-এর আলিশান দপ্তরে বসে তিনি আয়েশী জীবন কাটাচ্ছেন এবং বাংলাদেশের আইনি চোখ ফাঁকি দিচ্ছেন।
. অন্যদিকে, এই চোরের ফেলে যাওয়া কয়েকশ কোটি টাকার ১১টি পরিত্যক্ত বিমান বছরের পর বছর ধরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দখল করে আছে।
. এই বিশাল লোহার কঙ্কালগুলো সরাতে এবং স্ক্র্যাপ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিলাম করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিপুল পরিমাণ আইনি ব্যয় ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই মেগা ডাকাতির পেছনে থাকা সাবেক পরিচালনা pর্ষদের অন্যতম হোতারা হলেন তাঁর আপন ভাই তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ও শ্যালক খন্দকার মাহফুজুর রহমান, যারা সাধারণ মানুষের শেয়ারের টাকা লুটে এখন আত্মগোপনে আছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মূল্যে পুরোনো উড়োজাহাজ কেনা ও শেয়ার জালিয়াতির অকাট্য অভিযোগে ২০১৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই তাসবিরুল ও তাঁর দোসরদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অনুসন্ধান ও তলবি নোটিশ জারি করেছিল।. কেবল শেয়ার বাজারই নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে তা সম্পূর্ণ খেলাপি করে দেশের শীর্ষ ৩০০ মেগা ঋণখেলাপির তালিকায় অফিশিয়ালি নাম লিখিয়েছেন এই তাসবিরুল দম্পতি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-১)। এ ঘটনায় ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন—ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয় (২৭), বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৭) ও মো. সিফাত (২০), গাজীপুরের মো. রুবেল মিয়া (২৭) এবং বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া মির্ধাপাড়া গ্রামের মো. ফুরকান হোসেন (১৯)। রোববার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত দিয়ে মাদক অনুপ্রবেশ ও এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
২০২৪ সালের ২৫ জুন রাতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের খাবার বগিতে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার ক্যাটারিং কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। একই সাথে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ২৯ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। তবে গুরুতর এই অপরাধ সত্ত্বেও অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ করপোরেশন’ এর ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ বিচার শেষ হওয়ার আগেই তুলে নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ—যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহল। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। গত ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ও ৩০ ধারায় চার্জ গঠন করেন। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে মামলাটির আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। মামলার বেঞ্চ সহকারী মো. পারভেজ জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত চার আসামিরা হলেন, মো. জামাল (২৯), রাশেদুল হক প্রকাশ রাশেদুল ইসলাম (২৮), শরিফ মিয়া (২১), আবদুর রব রাসেল (২৮) অভিযুক্ত চারজনই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ কর্পোরেশন’র কর্মরত কর্মী ছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ জুন রাতে এক তরুণী টিকিট না পেয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের খাবার বগিতে বসেন। ট্রেন চলার পর থেকেই এস এ করপোরেশনের কর্মীরা তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সাধারণ যাত্রীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে অভিযুক্তদের বাধা দেন। তবে ২৬ জুন ভোরের দিকে খাবার বগিতে যাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেলে অভিযুক্ত কর্মীরা ওই তরুণীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ যাত্রীদের সহায়তায় রেলওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ট্রেন থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা, রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক এস এম শহীদুল ইসলাম তদন্ত শেষে আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য, ডিএনএ টেস্টের ফলাফল ও বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিচার শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার শাহ আলমের ‘এস এ কর্পোরেশনের’ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার—ক্ষোভ! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদয়ন এক্সপ্রেস এবং একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে এস এ করপোরেশনের খাবার সরবরাহ ও ক্যাটারিং সেবা চুক্তি স্থগিত করেছিল। তবে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হতেই কেবল ‘ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না’ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের এমন মৌখিক ও লিখিত প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ তুলে নেয় রেলওয়ে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ধর্ষণকাণ্ডের পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে আবেদন করায় তাদের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস এ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আইনবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, চলন্ত ট্রেনে এমন জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা এক ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল। এর ফলে রেলে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চরম গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক। এ বিভাগের আওতাধীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিকের পারিবারিক পটভূমি চুয়াডাঙ্গার আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম মো. রেজাউল হক মালিকের (মুকুল) সন্তান। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি রেজাউল হক মালিক মারা যান। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হক মালিক স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতা ছিলেন। তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলির জন্য লটারি আয়োজন করা হয়। ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিককে গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গণপূর্তের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের আওতাধীন সরকারের সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্বৈরাচারের দোসর পরিবারের সন্তানের কবজায় যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।