রাজনীতি

পলাতক ৩ জেনারেল এখন কলকাতার সেনা এলাকায়

জানিফ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ 0
পলাতক ৩ জেনারেল এখন কলকাতার সেনা এলাকায়
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান


.

ভারতে পলাতক বাংলাদেশের তিন আলোচিত জেনারেল— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এখন কলকাতার সেনা আবাসিক এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।

পতিত স্বৈরাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী এবং ভারতের ডিপ স্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তিন জেনারেলকে মোদি সরকার সম্প্রতি বেসামরিক এলাকা থেকে কলকাতার সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে। ঢাকা ও কলকাতার একাধিক নিরাপত্তা সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছে।


পলাতক তিন জেনারেলের মধ্যে মুজিব ও আকবর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরপরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। এরপর গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগের পর গত বছরের অক্টোবরে জেনারেল কবীর আহাম্মদও দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান।

বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দল দমনসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত পলাতক এই তিন জেনারেল কলকাতার অভিজাত এলাকা সল্টলেক ও নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তাদের এই বেসামরিক এলাকা থেকে সরিয়ে হুগলি ব্রিজের পাশে অবস্থিত সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই তিন জেনারেলের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত কলকাতার নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানিয়েছে, তিন জেনারেলকে সেনা আবাসিক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা খুবই ইঙ্গিতবহ।

কলকাতার সেনা আবাসিক এলাকাটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। বিশেষ পাস ছাড়া সাধারণ মানুষের এখানে প্রবেশ এক প্রকার নিষিদ্ধ। পলাতক এই তিন জেনারেল নিয়মিতই যোগাযোগ রাখেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন তারা। ভারতীয় ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে কীভাবে আবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায়Ñ তা নিয়েই তৎপর এই তিন জেনারেল।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, এই তিন জেনারেল নিয়মিতই বিশেষ করে ছুটির দিনে কলকাতা সিটি সেন্টার-২-এ অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সম্প্রতি কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দেখা গেছে এই তিন জেনারেলকে।

তিন জেনারেলের তৎপরতা এবং তাদের সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নানা অপরাধে জড়িত এই তিন জেনারেলকে ভারত সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দিয়েছে তাদের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহারের জন্য।

বিশ্লেষকরা আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অপরাধী জেনারেলের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা। একই সঙ্গে অপরাধীদের ভারত যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে জানানো।

উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ তার যেসব সহযোগী ভারতে পালিয়ে গেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি করেছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো। সেই ডেটাবেসে জেনারেল মুজিব, জেনারেল আকবর এবং জেনারেল কবীরের সঙ্গে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের যাবতীয় তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, তিন জেনারেল কলকাতায় বসবাস করছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরও সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন জেনারেল মুজিব। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানায়, জেনারেল মুজিব বরখাস্ত হওয়ার পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি শেখ হাসিনার খুবই বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। আর্মড ফোর্সেস এবং পুলিশে ‘র’-এর অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

জেনারেল মুজিব বাংলাদেশে ‘র’-এর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে চিহ্নিত। বিমান বাহিনীতে ‘র’-এর শ্যাডো রিক্রুটার হিসেবে কাজ করা স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামগ্রিক তদন্তে বেরিয়ে আসে সামরিক বাহিনীতে ‘র’-এর নেটওয়ার্ক ও জেনারেল মুজিবের সম্পর্ক। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে টানা ক্ষমতায় রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেন জেনারেল মুজিব ও তার নেটওয়ার্কের সদস্যরা।

জুলাই বিপ্লব চলাকালে সেনাবাহিনীতে ভারতপন্থি ক্যু করানোর জন্যও জেনারেল মুজিব আপ্রাণ চেষ্টা করেন। প্রথমে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট এবং পরে হাসিনার পলায়নের পরদিন ৬ আগস্ট তিনি ক্যু করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের ‘রেসকিউ মিশন’ সফল করার ক্ষেত্রেও জেনারেল মুজিবের বিশেষ ভূমিকা ছিল।

হাসিনা সরকারের পতনের পর জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন ঘোষণা করার জন্য তিনি কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবরেজ শামস, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরান হামিদের সঙ্গে একাধিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সঙ্গে মিলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও আয়নাঘরে নির্মম নির্যাতনের মতো সব অপরাধের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি (মাস্টারমাইন্ড)।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর যে বর্বরতম হামলা হয়, তারও পরিকল্পনাকারী ও অপারেশন পরিচালনার অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন মুজিব। র‌্যাবের জিয়াউল আহসানের সৃষ্টি হয়েছে মুজিবের হাতে। যদিও জিয়াউলের নাম নৃশংসতার জন্য যতটা আলোচিত হয়েছে, চতুর মুজিবের নাম ততটা হয়নি।

দুর্নীতির অভিযোগে লে. জে. মুজিব ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের ৩৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং তাদের নামে থাকা ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল এলাকায় থাকা ১০টি প্লট জব্দের আদেশ দিয়েছে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার আরেক একান্ত অনুগত এবং ভারতের ডিপ স্টেটের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ গুম, খুনের সঙ্গে জড়িত দুটি ভুয়া নির্বাচনের মূল কারিগর লে. জে. (অব.) মো. আকবর হোসেন জুলাই বিপ্লবের পর কোনো এক সময়ে ভারতে পালিয়ে যান। ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান এই তিন তারকা জেনারেল বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার মতো নানা অপরাধের অন্যতম হোতা।

জেনারেল মুজিবের মতো তিনিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় ডিপ স্টেট ‘র’-এর অনুপ্রবেশ ঘটানোর অন্যতম কারিগর। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের এবং ২০১৮ সালের রাতের ভোটের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই বিতর্কিত জেনারেল। ২০১৪ সালের একতরফা বিনা ভোটের নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দল। এমনকি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং তখন ঢাকায় এসে নির্বাচনে যেতে এরশাদের ওপর চাপ দেন। তবে এরশাদ তাতে রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে দিল্লির নির্দেশে তৎকালীন ডিজিএফআই-প্রধান জেনারেল আকবর বাসা থেকে এরশাদকে জোর করে তুলে নিয়ে সিএমএইচে বন্দি করে রাখেন এবং জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করেন।

বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার অন্যতম হোতা ছিলেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি এখন কলকাতায় বসে হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। ইতোমধ্যে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে সাবেক এই জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গুম ও নির্যাতনের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরাচার হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ গত বছরের অক্টোবরে ভারতে পালিয়ে যান। জেনারেল কবীরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেনা সদরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেনারেল কবীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একজন সার্ভিং বা কর্মরত জেনারেল কীভাবে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতের মতো বৈরী প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিলেন তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন এবং উদ্বেগ তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গুমের দায়ে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে, তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন জেনারেল কবীর। তিনি তখন কলকাতা যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ৯ অক্টোবর জেনারেল কবীর বিশেষ ব্যবস্থায় তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ আমলের গুমের ঘটনায় দুটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৮ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন জেনারেল কবীর।

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জেনারেল কবীর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সবশেষ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

গত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় খুনি মে. জে. জিয়াউল আহসান এবং কদমবুচি জেনারেল হিসেবে পরিচিত মে. জে. মাহবুব রশিদের কোর্সমেট হওয়ার সুবাদে ডিজিএফআইয়ের সিটি আইবিতে পোস্টিং দেওয়া হয় জেনারেল কবীরকে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের পদ লাভ করেন তিনি। জেনারেল জিয়া, মাহবুব ও কবীর একসঙ্গে গুম-নির্যাতনের পাশাপাশি নানা দুর্নীতি ও অপরাধে জড়ান। নেত্রকোনার বাসিন্দা জেনারেল কবীর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের জিওসিকে মোবাইলে ফোন করে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর জন্য শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দেশ দেন।

এদিকে তিন জেনারেলের পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং সেখানে ভারতের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগের। বাংলাদেশের জেনারেলরা ভারতকে তাদের জন্য নিরাপদ মনে করেছেন।

তিনি বলেন, ভারত তাদের আরাম-আয়েশ করার জন্য আশ্রয় দেয়নি। নিজেদের স্বার্থে ভারত এই জেনারেলদের বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহার করতে পারে। এসব জেনারেল নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রফেসর এম শহীদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেন, এই তিন জেনারেল নিশ্চিতভাবেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তারা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। পলাতক এসব জেনারেল বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনেক স্পর্শকাতর তথ্য জানেন।

তিনি বলেন, আমাদের জেনারেলরা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং ভারত তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। ভারত আসলে উসকানি দিচ্ছে। ভারত চাইছে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে। ভারতে যেসব জেনারেল আশ্রয় নিচ্ছেন তারা যে ভারতের হয়ে এখানে নানা ধরনের অপরাধ করেছেন তা এখন প্রমাণিত। ভারত এই অপরাধী জেনারেলদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

অপরাধী জেনারেলদের ভারত যে আশ্রয় দিচ্ছে, সে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকেই নজর রাখছে। সরকারের দায়িত্ব হলো বিষয়টি ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং এসব অপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দ্রুত শেষ করা। এটা করতে পারলে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে চাপে পড়বে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

রাজনীতি

View more
দুই মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেপ্তার
দুই মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেপ্তার

  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার (১৭) হত্যা এবং তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ডেমরা জোনের সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) নাজিম উদ্দিন ফকির আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে নাইম হাওলাদার বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিনই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, তারেক চৌকিদার নামের এক শিক্ষার্থী যাত্রাবাড়ি এলাকায় বাসার ছাদে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মামলায় সাবেক চিফ হুইপের যোগসাজশ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।   আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, আ স ম ফিরোজ বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। নাইম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাপর আসামিদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে আটক রাখার প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে নাইম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
‘আমাকে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’- বলার পর রাতেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমাকে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’- বলার পর রাতেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া গ্যাং

আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া গ্যাং

কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বগুড়ার মোকামতলায় রহবল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রহবলেই নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
বগুড়ার মোকামতলায় রহবল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রহবলেই নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

​গোলাম রব্বানীর শিপন, মহাস্থান- বগুড়াঃ বগুড়ার মোকামতলার রহবল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন পাকুড়তলার পরিবর্তে রহবল এলাকায়ই নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। ​মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রহবল বন্দরে আয়োজিত এই মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। ​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোকামতলা এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে তিনটি ইউনিয়নকে বিভক্ত করে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। নতুন নামকরণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সৃষ্টি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গত ২৩ জুন ভরিয়া হাই স্কুল মাঠে দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের দাবিতে গণশুনানিতে প্রায় ১,১০০ জনের সমর্থন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২৫ জুন রহবল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত আরও একটি গণশুনানিতে প্রায় ৩,৭০০ জনের সমর্থন নিয়ে রহবল ইউনিয়ন গঠনের জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়নটির নাম ‘রহবল ইউনিয়ন’ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে জানানো হয়, রহবল ইউনিয়ন মোট ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৬টি মৌজা রহবল বাজার কেন্দ্রিক এবং মাত্র ২টি মৌজা পাকুরতলা কেন্দ্রিক। ইউনিয়নের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম রহবল বাজারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়। অথচ নাম ‘রহবল ইউনিয়ন’ রাখা হলেও ইউপি ভবনটি রহবলে নির্মাণ না করে পাকুড়তলার (কৃষ্ণপুর মৌজায়) নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে, যা প্রস্তাবিত স্থান হিসেবে মোকামতলা পৌরসভা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত। প্রশাসনিক কেন্দ্রটি রহবলে স্থাপন করা হলে সাধারণ জনগণের যাতায়াত ও সেবা প্রাপ্তি অধিকতর সহজ, সুবিধাজনক ও জনবান্ধব হবে। ​বক্তারা বলেন, ইউনিয়নের নামকরণের সাথে প্রশাসনিক কেন্দ্রের একটি সুন্দর সমন্বয় থাকা জরুরি। অবিলম্বে এলাকাবাসীর দাবি বিবেচনা করে রহবল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রহবলেই নির্মাণের জন্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা। প্রয়োজনে সঠিক স্থান নির্ধারণে পুনরায় গণশুনানির আয়োজনের দাবি জানানো হয়। ​দ্রুত রহবল এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা। সাবিত হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মতিউর রহমান, সজিব ইসলাম, বেলাল সরকার, রাখিবুল ইসলাম প্রমুখ। সাংবাদিক/ গোলাম রব্বানী শিপন। মহাস্থান- বগুড়া।  মোবাইল নাম্বার, ০১৭১১২৫২৪৯৬ ৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার।

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
গণপূর্তে ২৩ অডিট আপত্তি

গণপূর্তে ২৩ অডিট আপত্তি

সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ২ কমিটির নতুন সভাপতি স্পিকার হাফিজ

সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ২ কমিটির নতুন সভাপতি স্পিকার হাফিজ

এবার ৬ দফা দাবিতে বগুড়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

এবার ৬ দফা দাবিতে বগুড়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চলতি সপ্তাহেই
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চলতি সপ্তাহেই

  রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। ফলে শিগগিরই আসনটিতে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। আখতার আহমেদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল এ সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হবে।’ এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। এ নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। পূজা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছিলেন, ‘এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড যে আপনার পোস্টাল ভোটিং, সেটারও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’ এর আগে গত ২২ আগস্ট সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন, অর্থাৎ ২১ আগস্ট থেকে আসনটি শূন্য হয়েছে। আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা শাখা ইতোমধ্যে ভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেই সময়সীমা মাথায় রেখেই কমিশন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এর আগে বলেছিলেন, ‘যেহেতু আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আমরা খুব বেশি সময় নেবো না।’ এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই এ আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পোস্টাল ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাজ করছে কমিশন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। এখন সেই শূন্য আসনেই উপ-নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
আজ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি

আজ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি

খুলনায় প্রথম দফায় কৃষি কার্ড পাবেন ২৩ হাজার কৃষক

খুলনায় প্রথম দফায় কৃষি কার্ড পাবেন ২৩ হাজার কৃষক

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী: তেল সংকটে লংমার্চ অযৌক্তিক

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী: তেল সংকটে লংমার্চ অযৌক্তিক

0 Comments