রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং (fuel loading) এর পর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যেতে জটিলতা বা ত্রুটি শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন চেষ্টার শুরুতেই প্লান্ট শাটডাউন করতে বাধ্য হয় তারা। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ (IAEA) এর প্রতিনিধিসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল রূপপুরে অবস্থান করছিল।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে প্রথম ইউনিটের সিস্টেমে প্রেশার (চাপ) দেয়ার পর আমরা একটি সামান্য ত্রুটি পেয়েছি। এটি কোনো বড় সমস্যা নয় এবং আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এটি ঠিক হয়ে যাবে।”
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষা চলাকালীন প্রকৌশলীরা প্রথম ইউনিটের তিনটি ভিন্ন স্থানে সামান্য ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। ঐ কর্মকর্তা জানান, ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী পরীক্ষা স্থগিত করার এবং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আগে সমস্যাগুলো সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছে।
শুরুতেই কি ধরণের সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং পরীক্ষার সময় প্রায় তিনটি ছোট ছিদ্র (minor holes) তৈরি হয়েছে। জানান, বিষয়টি সামান্য হলেও আমরা ক্ষতির পরিধি ও গুরুত্ব নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর আগেও এরকম একটি ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের টিমে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছোটো-খাটো কারিগরি সমস্যা বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘাটতি থাকলে নিউক্লিয়ার প্লান্ট শাটডাউন করতে হয়। তিনি বলেন, জ্বালানি লোডিং পরীক্ষা বা পরীক্ষামূলক উৎপাদনের চেষ্টার সময় সম্ভবত এ ধরণের কোনো বিষয় শনাক্ত করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এটিকে বড় সমস্যা মনে করছেন না তিনি।
রূপপুর সফরে থাকা আইএই-এর সদস্যরা বলেন, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্র পরিদর্শকের ভূমিকা পালন করবে সংস্খাটি। তবে রেগুলিটরি ক্ষমতা দেশটির নিজেদের হাতেই থাকে। এক্ষেত্রে আইএইএ কেবলমাত্র সহযোগিতা করে থাকে।
এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন যৌথ উদ্যোগে “নিউক্লিয়ার এনার্জি: স্ট্রাটেজি রিয়েলিটিজ অ্যান্ড বাংলাদেশ পাথ ফরোয়ার্ড”শীর্ষক দুই দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইইএ-এর পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বিশেষজ্ঞরাও এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, সংসদ সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ঐ আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, অন্যান্য জ্বালানি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলকভাবে কম হবে।
মন্ত্রী জানান, সরকার আরও দুটি নতুন ইউনিট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে সেটি নির্ভর করছে প্রথম প্রকল্পের ছূড়ান্ত সমাপ্তির ওপর।
কর্মকর্তারা জানান, রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও যেন কেন্দ্রটি টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকার এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বলেন, একটি ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম; তাঁর অনুমান অনুযায়ী এমন ঘটনা দশ লাখে মাত্র একবার ঘটতে পারে। তারপরও নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। যার প্রথম ইউনিটে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি-লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
এছাড়া একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানিভরনের কাজ শুরু হবে। অনুরূপ হিসাবেই ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ডিজিটাল অবকাঠামো, উচ্চগতির সংযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভবিষ্যৎ রূপরেখা সামনে রেখে রাজধানীতে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রিটি হলে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে তিনটি সেশনে আলোচনা হয়। এতে আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সংযোগের মান, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং এআই সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতার কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। কেবল ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত হবে না; এর সুফল পেতে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ডিভাইস, ব্যবহারোপযোগী ডেটা প্যাকেজ এবং বাংলা ভাষায় ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। একজন শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে অনলাইন ক্লাস করতে পারছেন কি না, একজন রোগী প্রয়োজনীয় রেফারেল পাচ্ছেন কি না কিংবা গ্রামের একজন উদ্যোক্তা ভোগান্তি ছাড়াই ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন কি না—এসব বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই সংযোগের কার্যকারিতা পরিমাপ করা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগসহনশীল রাউটার, নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ বিদ্যুৎ এবং দ্রুত নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত জরুরি দল গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক (৫জি) এবং ভবিষ্যতের ষষ্ঠ প্রজন্মের (৬জি) প্রযুক্তি বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়া না করার পরামর্শ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, যৌক্তিক ব্যয়, বাস্তব চাহিদা ও দেশের প্রস্তুতি বিবেচনায় নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা উচিত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে সরকার। সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই তিনটিকে অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ব্রডব্যান্ড এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং ও ডেটা সক্ষমতা, দক্ষ জনবল এবং গবেষণার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। টেলিকম সচিব ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতায় বৈশ্বিক গড়ের ব্যবধান কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের সুযোগ এবং মানুষের জীবনে সেই সংযোগের অর্থপূর্ণ ব্যবহারের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে। তিনি ডিজিটাল রূপান্তরের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের নীতিগত ভূমিকা ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া সরকারের পাঁচটি স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে জানান, আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এআই নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বাংলা ভাষাবান্ধব এআই এবং সাইবার সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে আইসিটি বিভাগ কাজ করছে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দা আফরোজ।
হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে দেশের বড় একটি অঞ্চলে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে গেছে। এমনকি বিদ্যুৎ নেই ঢাকায় অবস্থিতি সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকেও। তবে হঠাৎ এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ এখনো জানা যায়নি। পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বলছে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিলসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ নেই ঢাকার মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁওতেও। কারিগরি কারণ না জানা গেলেও ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। পিএলসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সম্প্রতি সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির দেওয়া একটি বক্তব্য এবং ক্রসফায়ারসংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনার পাশাপাশি তার পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত বা ভুল বার্তা তৈরি হয়ে থাকলে তিনি তা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, আইজিপির বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিবেচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।