দেশজুড়ে

দুবাইয়ের খাঁচায় এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ এবং একটি চিঠির হাহাকার

হোসেন মাঝি জুন ৩০, ২০২৬ 0
দুবাইয়ের খাঁচায় এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ এবং একটি চিঠির হাহাকার
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের

 


ক্ষমতা ও দম্ভের যুগে বসে যিনি একসময় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতের পুতুল ভাবতেন, সেই প্রতাপশালী সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পতন আজ ইতিহাসের নির্মম পরিহাস। ২০২৬ সালের ১২ জুন দুবাইয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিসে গ্রেপ্তার হন তিনি। সাধারণ মানুষ আজ তার দুর্নীতির পাহাড় দেখে চমকে উঠলেও, পর্দার আড়ালে কীভাবে এক সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ‘সুরক্ষাকবচ’ ভেঙে এই দানব তৈরি করা হয়েছিল, তা এখনো এক অপ্রকাশিত অধ্যায়। অথচ এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস অনেক আগেই সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো চিঠিতে নথিবদ্ধ ছিল। সেই নীতিগত প্রস্তাবনা মানলে আজ এই কলঙ্কজনক অধ্যায় এড়ানো যেত। নিয়মের সেই ব্যত্যয় কীভাবে একটি এলিট ফোর্সকে পথভ্রষ্ট করে ক্ষমতার মোহে অন্ধ এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ তৈরি করল, তা জানতে আমাদের ফিরে যেতে হবে এর জন্মলগ্নে।


২০০৩-০৪ সালের দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন চরম অবক্ষয়ের তলানিতে, তখন রাজনৈতিক চাপ ও নৈতিক স্খলনের কারণে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় প্রথাবদ্ধ পুলিশ বাহিনী। এই সংকটকালে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কালা ফারুক’ হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর একটি বিশেষায়িত ফোর্স গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রথম প্রয়াস ‘র‍্যাট’ (RAT) পুলিশের কর্মকর্তাদের শারীরিক অযোগ্যতার কারণে ব্যর্থ প্রজেক্টে পরিণত হয়। এই ব্যর্থতার পটভূমিতেই সেনাবাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা ও রণকৌশলকে কাজে লাগিয়ে জন্ম নেয় এলিট ফোর্স ‘র‍্যাব’, যার নেপথ্য আইন ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এনএসআই ও ডিজিএফআই।

তবে শুরু থেকেই র‍্যাবে সামরিক বাহিনীর এই আধিপত্যকে পুলিশ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে, যার ফলে শীর্ষ স্তর থেকে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক অসহযোগিতা শুরু হয়। এনএসআইয়ের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তখন সরকার একটি কৌশলগত পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করে। সেই সমীকরণ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মহাপরিচালকের পদটি সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত থাকলেও, পুলিশের ক্ষোভ প্রশমনে তা অতিরিক্ত আইজিপি আনোয়ার ইকবালকে দেওয়া হয়। তবে বাহিনীর মূল অপারেশনাল মেরুদণ্ড ও কঠোর সামরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ADG-Operations) পদটি সম্পূর্ণভাবে সেনাবাহিনীর (তৎকালীন কর্নেল মিল্লাত) হাতেই ন্যস্ত রাখা হয়।

‘২ বছরের প্রেষণ নীতি’ : ফাইলে নিশ্চিত করা সেই অমোঘ সুরক্ষাকবচ

র‍্যাব সফলভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সততা ও পেশাদারিত্ব আজীবন অক্ষুণ্ণ রাখতে এনএসআই একটি বিশেষ নীতিগত প্রস্তাবনা তৈরি করে, যা সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছিল। সেই ফাইলে একটি অমোঘ সুরক্ষাকবচ যুক্ত ছিল, তা হলো, র‍্যাবে প্রেষণে আসা কোনো কর্মকর্তা বা জোয়ানের কাজের মেয়াদ কোনোভাবেই যেন ‘২ বছর’-এর বেশি না হয়।

সাধারণত সব বাহিনীতে পোস্টিংয়ের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর হলেও, র‍্যাবের ক্ষেত্রে তা কঠোরভাবে ‘২ বছর’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর একমাত্র কারণ ছিল, কোনো সংবেদনশীল পদে দীর্ঘদিন থাকলে কর্মকর্তারা যেন স্থানীয় অপরাধী চক্র, রাজনীতি বা দুর্নীতির সিন্ডিকেটে জড়াতে না পারেন। দুই বছর পর মূল বাহিনীতে ফিরে গেলে কোনো স্থায়ী কায়েমি স্বার্থ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না।

জিয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রেষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পঙ্গুত্ব

চেইন অব কমান্ড ভেঙে জিয়াকে র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের ডিরেক্টর, এডিজি অপারেশনস ও ভারপ্রাপ্ত ডিজির দাপুটে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর এনএসআই এবং পরে এনটিএমসির মহাপরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের পতন পর্যন্ত তিনি চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। সামরিক বাহিনীর বাইরে একটানা ১৫ বছর প্রেষণে কাটানোর এ ঘটনা সামরিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন রেকর্ড।

সামরিক মানদণ্ডে জিয়া যে অত্যন্ত সাধারণ মানের অফিসার ছিলেন, তা ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্যেই প্রমাণিত। তিনি জানান, জিয়া স্টাফ কলেজ সম্পন্ন করার যোগ্যতাই অর্জন করেননি, যা লে. কর্নেল পদের জন্য আবশ্যক; এমনকি তিনি কোনো ব্যাটালিয়নও কমান্ড করেননি, যা কর্নেল পদের পূর্বশর্ত। সাবেক সেনাপ্রধানের মতে, পদোন্নতি বোর্ডের অনেক সদস্য তখন নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে জিয়ার এই মারাত্মক প্রাতিষ্ঠানিক অযোগ্যতা ও নিয়মের ব্যত্যয়কে চোখ বুজে সায় দিয়েছিলেন। নিজের মূল বাহিনীর কোনো প্রথাগত ফর্মেশন কমান্ড না করেই জিয়ার এই উল্কাগতির উত্থান সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস ও পেশাদার অফিসারদের মধ্যে চরম হতাশা এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল, যা স্পষ্ট প্রমাণ করে কীভাবে রাজনৈতিক অপশক্তি দ্বারা সামরিক বাহিনীর নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন এবং পেশাদার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে পঙ্গু ও কুক্ষিগত করা হয়েছিল।

বেনজীরের আগমন ও সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ডমিনেশন ছিনতাই

জিয়া যখন র‍্যাবের ভেতর তার শিকড় শক্ত করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন বেনজীর আহমেদ। চতুর বেনজীর র‍্যাবে এসেই এই রাজনৈতিক সমীকরণের পূর্ণ সুযোগ নেন এবং পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পদ আঁকড়ে ধরে রাজত্ব করেন।

র‍্যাবের জন্মলগ্ন থেকে ক্ষমতার যে একটি অলিখিত ভারসাম্য (Balance of Power) ছিল, যেখানে সেনাবাহিনী থেকে আসা এডিজি এবং তার টিমের অপারেশনাল ও ফিল্ড ডমিনেশন অক্ষুণ্ণ থাকার কথা ছিল, বেনজীর এসে সেই নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজের মুঠোয় ছিনতাই করে নেন। তিনি এডিজির চেইন অব কমান্ডকে কার্যত অকেজো ও ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করেন।

সেনাবাহিনী থেকে আসা চৌকস অফিসারদের সুকৌশলে সাইডলাইন করে, তিনি জিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান ও শক্তিশালী রাজনৈতিক কানেকশনকে নিজের স্বার্থে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। বেনজীর এবং জিয়ার এই যৌথ ছত্রছায়ায় র‍্যাবে এক ভয়ংকর ও কলঙ্কিত চেইন অব কমান্ড তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে পরবর্তী বছরগুলোয় শত শত মানুষের গুম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।

ক্ষমতার মোহে অন্ধত্ব : রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়েও ‘পরিচিত’ হওয়ার দম্ভ

ক্ষমতার মোহে বেনজীর আহমেদ এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে একটি কথা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল, রাষ্ট্রের যেকোনো বড় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের চেয়ে মাঠপর্যায়ে তার কথাই ছিল বেশি প্রভাবশালী। রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র, গণমাধ্যম ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তিনি এই কৃত্রিম দম্ভোক্তিপূর্ণ পরিচিতি তৈরি করেছিলেন।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল ব্যবস্থা তখন এতটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল, উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একজন পুলিশপ্রধানের উপস্থিতিতে কিছু কিছু মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরাও সসম্ভ্রমে দাঁড়িয়ে যেতেন, যা প্রথাগত প্রশাসনিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। একজন প্রজাতন্ত্রের সাধারণ কর্মচারীর সামনে জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের এই নতজানু অবস্থা প্রমাণ করে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে গিয়ে বেনজীরকে আইনের ঊর্ধ্বে এমন এক দানবীয় জায়গায় বসিয়েছিলেন, যেখানে তিনি পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সাহস পেয়েছিলেন।

সামরিক ঐতিহ্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : আইজিপি বনাম সেনাপ্রধানের বিতর্কিত যৌথ বিবৃতি

বেনজীরের এই ক্ষমতার দম্ভ শুধু বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা সরাসরি আঘাত করেছিল দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলার ওপর। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধান ১২ নম্বর আর্টিকেলে উচ্চতর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ভোগ করেন, যেখানে পুলিশের আইজিপি অবস্থান করেন ১৬ নম্বরে। পাশের দেশ ভারতেও সামরিক প্রধানরা প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদা পান, যা বেসামরিক প্রশাসনের চেয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অতি-ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বেনজীর নিজেকে সব নিয়মের ঊর্ধ্বে নিয়ে যান, যা সশস্ত্র বাহিনীর চিরাচরিত মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক ছিল।

এর চূড়ান্ত ও বিতর্কিত রূপ দেখা যায় ২০২০ সালে টেকনাফে পুলিশের ওসি প্রদীপের হাতে সাবেক মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর। এই নির্মম ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়। সেই পটভূমিতে, প্রোটোকল অনুযায়ী যেখানে আইজিপির সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ একজন মেজর জেনারেলের যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে বেনজীর নিজের অবস্থানকে সেনাপ্রধানের সমকক্ষ জাহির করার সুযোগ নেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বয়ং সেনাপ্রধানকে পাশে বসিয়ে বেনজীর এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। একটি সাধারণ অভ্যন্তরীণ বিভাগের প্রধান হয়েও বেনজীরের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ সমকক্ষতা জাহির করার চেষ্টা এবং সেনাপ্রধানকে সেই প্রোটোকল সংকটে ফেলা সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার অফিসারদের গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট করেছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্যুতির খতিয়ান : ভাঙা সুরক্ষাকবচ ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা

ইন্টেলিজেন্স ফিল্ডের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেষে আমি যখন আবার নৌবাহিনীতে ফিরে আসি, তখনই নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, কোনো চরম ব্যতিক্রমী বা বিশেষ কৌশলগত প্রয়োজন ছাড়া কোনো কর্মকর্তাকে যেন দুই বছরের বেশি র‍্যাবে প্রেষণে রাখা না হয়। জুনিয়র অফিসাররা র‍্যাবের অ্যাডভেঞ্চারাস পজিশন সাময়িকভাবে উপভোগ করলেও, দীর্ঘ মেয়াদে তা তাদের মূল পেশাদারিত্ব ও ক্যারিয়ার গঠনে মারাত্মক ক্ষতি করে। সামরিক বাহিনীর মতো একটি উচ্চ-সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নৈতিক মানদণ্ড এবং পেশাদার শৃঙ্খলা ধরে রাখতে এই দুই বছরের সময়সীমা কঠোরভাবে বজায় রাখা অপরিহার্য ছিল।

এনএসআইয়ের পক্ষ থেকে এই দূরদর্শী প্রেষণনীতিটি আমার হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন ও ইনিশিয়েট করা হয়েছিল। সেদিন ফাইলের সেই ‘২ বছরের সুরক্ষাকবচকে’ বিন্দুমাত্র সম্মান জানানো হলে আজ ইতিহাস এতটা কলঙ্কিত হতো না এবং কোনো কর্মকর্তা দানব হওয়ার সুযোগ পেত না। এই একটিমাত্র পলিসি লেটার অনুসরণ করলে রাষ্ট্র এক মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেত। আগ্রহী পাঠকরা এই নীতির সুগভীর গুরুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তার বিবরণ আমার ‘জাতীয় দিশা’ গ্রন্থের ‘র‍্যাব কি পথ হারিয়েছে’ এবং ‘পুলিশ শুধু ঘুস খায় না, দেয়ও’ প্রভৃতি প্রবন্ধগুলো থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন। নীতিনির্ধারকদের এখন উচিত আন্তর্জাতিক উদাহরণ অনুসরণ করে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা, যা নিয়মিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কাজ করবে।

নীতিনির্ধারকদের জন্য শিক্ষার ক্রান্তিকাল এবং তিন স্তম্ভের প্রতি নির্দেশনা

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় কর্মের দাগ থেকে যায় আজীবন। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ভাঙার চড়া মূল্য রাষ্ট্রকে কীভাবে দিতে হয়, বেনজীর ও জিয়ার পতন আজ তার জীবন্ত প্রমাণ। এই প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য শুধু সমালোচনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ভালো উদাহরণগুলো অনুসরণ করে আমাদের নীতিনির্ধারক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।

এই অধ্যায় থেকে আমাদের রাজনীতিবিদ, সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক আমলাতন্ত্র, তিনটি স্তম্ভেরই গভীর নীতিগত শিক্ষা নেওয়া জরুরি। প্রথমত, রাজনীতিবিদদের বুঝতে হবে যে সাময়িক ফায়দা বা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য পেশাদার কর্মকর্তাদের আইনের ঊর্ধ্বে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচ (Policy Letters) ভাঙার পরিণতি কত বিধ্বংসী হতে পারে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যাদের ক্ষমতার শীর্ষে বসানো হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তারাই পুরো ব্যবস্থাটিকে গ্রাস করেছিল। ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস যে, খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল শুধু সেই প্রাজ্ঞ নীতিগত চিঠি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চেইন অব কমান্ডকে অগ্রাহ্য করার কারণে। অন্য কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও, নিয়মের এমন আত্মঘাতী লঙ্ঘন চিন্তাই করা যায় না।

দ্বিতীয়ত, সামরিক বাহিনীর জন্য নির্দেশনা হলো, জুনিয়র অফিসারদের সাময়িক রোমাঞ্চের চেয়ে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি নৈতিকতা, ঐতিহ্য এবং কোর পেশাদারিত্ব রক্ষা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রেষণনীতির সুরক্ষাকবচ কঠোরভাবে ধরে না রাখলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং তৃতীয়ত, সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের আগামী প্রজন্মের কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, আইনের শাসন, পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মেরুদণ্ড সোজা রেখে সততার পথে চলাই একমাত্র মূলমন্ত্র। পদপদবি বা ক্ষমতার দম্ভ সময়ের স্রোতে একসময় বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু নিয়মের আত্মঘাতী লঙ্ঘনের যে বিচার ইতিহাস করে তা এড়ানো অসম্ভব। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আজ আমাদের গভীরভাবে শিক্ষা নিতেই হবে এই ‘বেনজীরের নজির’ থেকে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

দেশজুড়ে

View more
বগুড়ার শিবগঞ্জে আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
বগুড়ার শিবগঞ্জে আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

​গোলাম রব্বানী শিপন, বগুড়াঃ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং তাদের মেধা বিকাশে অনুপ্রেরণা জোগাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহমূলক শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশন’। ​ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে করতকোলা জোনাব আলী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও করতকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ​অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন ও বর্তমান সভাপতি তাবরিজ আহম্মেদ, সহ-সভাপতি রিজু ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মারজান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজ বাবু ফিরোজ, কোষধ্যক্ষ আবু সায়েম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসলামুল হক সাগর এবং সদস্য শাহ আলম, মোমিন, বাঁধন, নয়ন, শুভসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ। ​অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সভাপতি তাবরিজ আহম্মেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা ও প্রতিভাকে বিকশিত করতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর ভালো ও খারাপ, দুই দিকই আমাদের অনুধাবন করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগী হতে হবে।” তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ​অনুষ্ঠান শেষে করতকোলা জোনাব আলী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও করতকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এভাবে উৎসাহিত করা হলে তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এমন মানবিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তারা সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: আর্থিক খাতের ভয়াবহ বাস্তবতা উন্মোচিত

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: আর্থিক খাতের ভয়াবহ বাস্তবতা উন্মোচিত

সাভারে মিঠুনকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

সাভারে মিঠুনকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে যুবকদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে যুবকদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু

ভারতে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন
ভারতে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

  ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সাহারানপুর জেলায় রাতের অন্ধকারে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সাহারানপুর কালেক্টরেটের ভেতরে অবস্থিত ‘গরিব নওয়াজ আল মারুফ’ নামে মসজিদটি গুড়িয়ে দেয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কালেক্টরেট চত্বরের প্রবেশপথও নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ৩১৫ বর্গমিটার জমি, যা রাজস্ব নথিতে কালেক্টরেটের সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত বলে আদালতে জানানো হয়। ২০২৫ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর সাবেক এক নেতা অভিযোগ করেন, কালেক্টরেট চত্বরে সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি ও ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং গত মার্চ মাসে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন স্থাপনা’ আখ্যা দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালি করার নির্দেশ দেন। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি বহু পুরোনো—প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রয়েছে এবং জমির মালিকানা নিয়ে তাদের পক্ষে নথিও রয়েছে। তারা সরকারি পক্ষের জমির মালিকানা দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে। মসজিদের মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) তানভীর আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মসজিদটি ব্রিটিশ আমল থেকে, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ বছর ধরে সেখানে রয়েছে। ঐতিহাসিক নথিতে ১৯১১ সালে এই মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার প্রমাণও রয়েছে, যা কালেক্টরেট ভবন তৈরিরও আগের। গত ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ হিসেবে বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রিমাইসেস (অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ) আইন, ১৯৭২-এর আওতায় উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে জেলা আদালতে আপিল করেছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা আদালত সেই আপিল খারিজ করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আগের আদেশ বহাল রাখে। তবে আদালতের আদেশে সরাসরি মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ ছিল না; সেখানে আগের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশই বহাল রাখা হয়। আদালত সেই আপিল খারিজ করে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোরের আলো ফোটার আগেই মসজিদটি ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন।

News সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
এনআইডি সেবা চাইতে গিয়ে চড় খেলেন প্রবাসী

এনআইডি সেবা চাইতে গিয়ে চড় খেলেন প্রবাসী

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

অল্প পানিতেই তলিয়ে যায় কাঁচা রাস্তা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

অল্প পানিতেই তলিয়ে যায় কাঁচা রাস্তা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ধনবাড়ীতে দৈনিক মজলুমের কন্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ধনবাড়ীতে দৈনিক মজলুমের কন্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

  মোঃ জাকির খান টাঙ্গাইল।   মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত জাতীয় "দৈনিক মজলুমের কন্ঠ" ৩১ বছর পেরিয়ে ৩২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।  মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)২০২৬ ইং তারিখে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কেক কাটা ও মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ।   এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি "সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু", সহ-সভাপতি এস এম আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী সদস্য, মোঃ পলাশ ইসলাম, মোঃ জাহিদ সরকার, মোঃ কোভিদ হোসেন,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক  মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রিন্স এডওয়ার্ড মানসাং, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ তুহিন সহ আরো অনেকেই,,,

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য

পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য

দেওয়ানগঞ্জে ৫ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

দেওয়ানগঞ্জে ৫ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যা, সড়ক অবরোধ

বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যা, সড়ক অবরোধ

0 Comments