ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তথ্য ডিজিটালাইজেশন কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৯ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানি শেষে ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আমাদের দেশে অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, সেক্ষেত্রে একটি অনলাইন ডাটাবেজ যদি ক্রিয়েট করা যায়, যাতে করে দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ডগুলো পাবলিকলি অ্যাভেইলেবল থাকবে। এরকম ডাটাবেজ যদি ইমপ্লিমেন্ট করা যায়, তাহলে আমি মনে করি এটা দুটো পারপাস সার্ভ করবে।
প্রথমত, দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ডগুলো যেহেতু পাবলিকলি অ্যাভেইলেবল থাকবে, এ ইনফরমেশনটা আর কনফিডেনশিয়াল থাকবে না। যার কারণে সামাজিক ক্রিটিসিজমের ভয়ে, অস্ট্রাসিজমের ভয়ে, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ে অপরাধী বারবার চিন্তা করবে এবং অপরাধের সংখ্যাটাও কমবে।
দ্বিতীয়ত, আমাদের দেশে অনেকগুলো আইন রয়েছে, অপরাধ সংঘটন হওয়ার পর কঠিন শাস্তি রয়েছে, অপরাধ সংঘটন হওয়ার পর কোন আইনে মামলা করতে হবে—এরকম অনেকগুলো বিষয় রয়েছে, কিন্তু প্রিভেন্টিভ কোনো মেজার নেই। আমাদের এখনও ওই অবকাঠামো নেই। আমরা যদি কাউকে এমপ্লয় করতে চাই, কাউকে যদি ঘরে রাখতে চাই, তাহলে তার ব্যাপারে, তার ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যাপারে জানার কোনো ভেরিফিকেশন প্রসেস
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, যদি এরকম অনলাইন ডাটাবেজ ইমপ্লিমেন্ট করা হয়, তাহলে সিটিজেনদের কন্সটিটিউশনাল যে রাইটস রয়েছে, সেগুলো আপহেল্ড হবে।
ফাহমিদা আখতার বলেন, এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছিলাম। আজকে সেটির শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন, এরকম কোনো নির্দেশনা দেওয়া হবে না, যাতে করে একটি পাবলিকলি অ্যাক্সেসিবল অনলাইন ডাটাবেজ ক্রিয়েট করা হয়, যার মধ্যে দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ড অ্যাভেইলেবল থাকবে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে সরকারি-বেসরকারি মাদরাসার দুটি নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে সহকারী মৌলভী (কারি) ও ইবতেদায়ি কারি পদে এসব বোর্ডের সনদধারীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমে ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডগুলো হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। এতে সহকারী মৌলভী (কারি) ও ইবতেদায়ি কারি পদে নিয়োগের কাম্য যোগ্যতা হিসেবে ওই ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই দুটি পদে কওমি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদপ্রাপ্তদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এআইয়ের প্রভাব ও অপব্যবহার থেকে বিচারব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে বিচারকদের এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও কণ্ঠস্বর নকল করা, ছবি পরিবর্তন বা সুপারইম্পোজড করা এবং মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি এআই মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআইয়ের ঝুঁকি ও অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব এআই যুগে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এআই ব্যবহারের ঝুঁকি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি। আগামী দিনে এআই যেভাবে মানুষকে নির্দেশনা দেবে, প্রভাবিত করবে এবং কখনো সঠিক আবার কখনো বিভ্রান্তিকর পথে পরিচালিত করতে পারে, তা চিন্তার বিষয়। তিনি বলেন, কোনো বিচারককে এআইয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর পড়তে পারে। তাই বিচারকদের সবার আগে এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো তথ্য বা উপাদান এআই-নির্ভর কি না, সে বিষয়টিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের গতিপথও নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন সময়ে বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। এআইও বিচারব্যবস্থার সামনে তেমন একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। যথাযথ আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, এআই নিষিদ্ধ করার কোনো চিন্তা সরকারের নেই। বরং এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে। এআই নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন ও নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঠনমূলক সমালোচনা ও মতামতের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করা সম্ভব। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় না। বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্তকে অধিকতর যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মনে হবে, সরকার সে পথেই এগিয়ে যেতে চায়।
জরিমানা ছাড়াই গ্রাহকদের জন্য মোটরযানের যাবতীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকারি সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র (যেমন: ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা যাবে। গ্রাহকদের শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব কাগজপত্র হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। এর আগে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন না করলে এখন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো মোটরযান বিক্রি করার পর তার মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি সড়ক বা মহাসড়কে ব্যবহার করছেন। এতে বিক্রেতাকে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। মালিকানা পরিবর্তন না করার কারণে পুরোনো মালিককেই ওই মোটরযানের জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যা বিক্রেতার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিআরটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত করা হয়েছে। এখন অনলাইনে (bsp.brta.gov.bd) আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতা বা নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারছেন। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সব মোটরযান মালিক ও ক্রেতাকে দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায় নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা শুরু করেছে সংস্থাটি। বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা-১১ (১) অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। আইন অমান্য বা বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক পয়েন্ট কাটা হচ্ছে।