দেশজুড়ে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে যুবকদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু

Montu Mian সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে যুবকদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন

 

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 

​সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার ও যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে “ইলেকট্রিক্যাল এন্ড হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ-২০২৬”।


​আজ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মোট ৩৫ জন যুবক এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।


​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং চরবাগডাঙ্গা বিওপি কমান্ডারসহ বিজিবি’র অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।


​সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার যুবসমাজ কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে একটি নিরাপদ জীবন গড়তে সক্ষম হবে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

দেশজুড়ে

View more
জুলাইয়ে উসকানির অভিযোগ, শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা ট্রাইব্যুনালে
জুলাইয়ে উসকানির অভিযোগ, শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা ট্রাইব্যুনালে

  জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তিন সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দিন ধার্য রয়েছে। সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।তিন সাংবাদিক হলেন- জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। এর আগে গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন সাংবাদিকের বক্তব্য ও প্রশ্নের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে মন্তব্য করেন।রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এ ধরনের উসকানি ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করছে তদন্ত সংস্থা।   

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
দীর্ঘ অবকাশ শেষে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট

দীর্ঘ অবকাশ শেষে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

সড়কে নামার চেষ্টা পোশাক শ্রমিকদের, জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ

সড়কে নামার চেষ্টা পোশাক শ্রমিকদের, জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ

অনুমোদনহীন নকশায় ঢাকার ৫৯% হাসপাতাল, ব্যবহার ছাড়পত্র নেই ৭৩%
অনুমোদনহীন নকশায় ঢাকার ৫৯% হাসপাতাল, ব্যবহার ছাড়পত্র নেই ৭৩%

  রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সিংহভাগ ভবনেরই নকশার অনুমোদন নেই। প্রায় শতভাগ প্রতিষ্ঠানই চলছে ভবন ব্যবহারের বৈধ সনদ ছাড়া। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার চরম ঘাটতি, জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এবং কলাম-বিমে ফাটলসহ নানা কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়েই চলছে এসব হাসপাতালের কার্যক্রম। জানা গেছে, ৭৩ শতাংশ হাসপাতালই ভবন ব্যবহারের সনদ ছাড়াই চিকিৎসা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং ৫৯ শতাংশ ভবনের নেই অনুমোদিত নকশা। পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮২ শতাংশ হাসপাতালে ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার ডোর ও স্মোক ডিটেক্টরের মতো প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। তবে রাজউক জানিয়েছে, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় ৬ নবজাতক শিশুর মৃত্যুর পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ঢাকার ১৯৪টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত এক অনুসন্ধানী পরিদর্শনে এসব ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এলাকাভিত্তিক পরিদর্শনের তথ্য রাজউকের পরিদর্শক দল গাজীপুর, টঙ্গী ও পূর্বাচল সংলগ্ন জোন-১ এলাকায় সর্বমোট ৩৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র তদারকি করে। এর মধ্যে জোন ১/১-এ ২৭টি, জোন ১/২-এ ৪টি এবং জোন ১/৩-এ রয়েছে ৩টি হাসপাতাল। উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান নিয়ে গঠিত জোন-২ এলাকায় ২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জোন ২/১ থেকে ২০টি এবং জোন ২/২ থেকে ৭টি হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। আর মিরপুর, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন জোন-৩ এলাকার ২৭টি হাসপাতালের চিত্র উঠে এসেছে; যেখানে জোন ৩/১-এ ৭টি, জোন ৩/২-এ ৮টি এবং জোন ৩/৩-এ ১২টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক তদারকি করা হয়। অন্যদিকে গুলশান, বনানী, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকা নিয়ে গঠিত জোন-৪-এর মোট ১০টি হাসপাতালের নথিপত্র ও কাঠামো পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে জোন ৪/১-এ ৬টি এবং জোন ৪/২-এ ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালবাগ সংলগ্ন জোন-৫ এলাকায় ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জোন ৫/১-এ ৮টি, জোন ৫/২-এ ১৬টি এবং জোন ৫/৩ এলাকায় ৯টি হাসপাতাল পরিদর্শনের আওতায় আসে। এ ছাড়া মতিঝিল, মগবাজার ও পুরান ঢাকা নিয়ে গঠিত জোন-৬-এ সর্বোচ্চ ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে তদারকি চালানো হয়; যেখানে জোন ৬/১-এ ২০টি, জোন ৬/২-এ ২০টি এবং জোন ৬/৩-এ ৭টি হাসপাতাল রয়েছে। আর কেরানীগঞ্জ, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ সংলগ্ন জোন-৭ এলাকার ১৬টি হাসপাতালের মধ্যে জোন ৭/১ থেকে ১০টি, জোন ৭/২ থেকে ৫টি এবং জোন ৭/৩ এলাকা থেকে ১টি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে রাজউকের দল। ৭৩ শতাংশেরই নেই ভবন ব্যবহারের ছাড়পত্র পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৪টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ ভবনকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাজউকের প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র নিয়েছে। বাকি ৯৯ শতাংশের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ছাড়পত্রের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ভবন ব্যবহারের সনদ ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর ২৬ শতাংশ ভবনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে সনদসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। পরিদর্শনে ৫৯ শতাংশ ভবনের অনুমোদিত নকশা পাওয়া যায়নি। বাকি ৪১ শতাংশ ভবনের অবশ্য রাজউক অনুমোদিত নকশা রয়েছে। শুধু অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্রেই অনিয়ম সীমাবদ্ধ নয়, ভবনের ব্যবহারেও রয়েছে বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৫ শতাংশ হাসপাতাল ভবন ব্যবহারের অনুমোদিত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ২২ শতাংশ ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা বা ‘ভয়েড এরিয়া’ রাখা হয়নি। ১৮ শতাংশ হাসপাতালের ক্ষেত্রে সামনের রাস্তার প্রস্থ নিয়ম অনুযায়ী পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ৫২ শতাংশ ভবনে ইমারত নির্মাণের ‘সেটব্যাক’ বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তায় ভয়াবহ চিত্র হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও পরিদর্শনে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শিত ভবনগুলোর ৭০ শতাংশে ফায়ার অ্যালার্ম নেই। ৮১ শতাংশে ফায়ার ডোর এবং ৮২ শতাংশে স্মোক ডিটেক্টর পাওয়া যায়নি। ৭২ শতাংশ ভবনে ছিল না জরুরি নির্গমন পথের কোনো নির্দেশক। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থাও সীমিত। মাত্র ২৭ শতাংশ ভবনে জরুরি আলোর ব্যবস্থা পাওয়া গেছে। ফায়ার হাইড্রেন্ট রয়েছে ২৫ শতাংশ ভবনে। সাধারণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি ২০ শতাংশ ভবনে। এসব ঘাটতির কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ও চলাচলে অক্ষম রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছেমাফিক সম্প্রসারণ, ছাদে ভারী কাঠামো পরিদর্শনে কয়েকটি হাসপাতাল ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্রও উঠে এসেছে। দুটি হাসপাতালের বিম ও কলামে ফাটল দেখা গেছে। ছয়টি ভবনের ভেতরের রডে মরিচা ধরে কংক্রিট খসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ৪৬টি হাসপাতাল ভবনে অতিরিক্ত সম্প্রসারিত অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদ বা ওপরের অংশে অননুমোদিত ভারী কাঠামো নির্মাণ করে অতিরিক্ত ভার চাপানো হয়েছে। এসব অনিয়ম ভবনের স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা থাকে না। নেই পার্কিং, বাস্তবে দোকান-গুদাম হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত পার্কিং সুবিধা রাখার বিধান থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তা মানছে না। রাজউকের পরিদর্শনে ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২০টিতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের পার্কিংয়ের জায়গা নানা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় দোকান, গুদাম, অফিস, আবাসন ইউনিট ও ব্যাংকের শাখা। এতে হাসপাতালের নিজস্ব পার্কিং সুবিধা সংকুচিত হয়েছে। যার প্রভাবে কোনো কোনো হাসপাতালের সামনে প্রায়ই জ্যাম লেগে থাকে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন এবং অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ১৯৪টির মধ্যে মাত্র ৪টিতে অভিযান আইন অমান্য করে হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা এসব প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২২টিকে নোটিশ দিয়েছে রাজউক এবং মাত্র ৪টি ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেহেতু স্পর্শকাতর সেবামূলক জায়গা, তাই চাইলেই হুট করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। আমরা ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোকে নোটিশ দিয়েছি। এ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে আলাদা বিল্ডিং কোড ও মানদণ্ড রয়েছে। এসব ভবনের জন্য বিশেষায়িত নকশা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো এ বিষয়টি মানে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনকে হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রাজউক কেন শুরু থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করেনি। তার মতে, শুরু থেকেই যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পেত এবং এই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতো না।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
পানামায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক

পানামায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক

কক্সবাজার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ড—নিহত বেড়ে ৭

কক্সবাজার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ড—নিহত বেড়ে ৭

ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ

ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ

বৃক্ষনিধনে উজাড় হচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চল
বৃক্ষনিধনে উজাড় হচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চল

  পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেও টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে তা মানা হচ্ছে না। বৃক্ষনিধন করে দখল হয়ে যাচ্ছে এই বনাঞ্চল। ফলে মধুপুর বনাঞ্চল এখন উজাড় হওয়ার পথে। জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন হচ্ছে অক্সিজেনের কারখানা। সেই মধুপুর বনাঞ্চলে চলছে বৃক্ষনিধনের মহোৎসব। এই বনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের গাছ কেটে উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে । দোখলা রেঞ্জের সদর বিট, চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি, জামবাইদ এলাকার প্রায় পাঁচ বিঘা বনভূমিতে পুরোনো শাল ও গজারি শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে । স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। পরে এসব জমি দখলে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করছেন । স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে অরণখোলা বিটে বনের জমি দখল করে স্থায়ী পাকা ইমারত নির্মাণ করাও অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক শালবন শুধু গাছের সমষ্টি নয়; এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, মাটির গুণাগুণ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরোনো শাল-গজারি গাছ কেটে ফেলা হলে বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বনভূমি দখল করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করা হলে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি জানান, বন বিভাগের লোক বন কাটার পেছনে যুক্ত এটা পুরোনো গল্প । বনের জীববৈচিত্র্য কেন দরকার সেই বিষয়গুলো নিয়ে যদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না যায়, তাহলে বন বাঁচানো সম্ভব হবে না। যারা সামাজিক বনের সুফলভোগী তারাই বন কাটছে, যেটা বন বিভাগ জানে আর বন বিভাগ সর্বোচ্চ যে ব্যবস্থাটা নেয় সেটা হচ্ছে কাঠ জব্দ করা, মামলা দেওয়া, বন যেভাবে কাটা হচ্ছে তাতে কাঠ জব্দ করে মামলা দিয়ে বন রক্ষা সম্ভব না। এ বিষয়ে মানুষ সচেতন না হলে রক্ষা করা সম্ভব না। দোখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জামবাইদ এলাকার বন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এছাড়া তিনি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই এলাকার বন কাটার বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানবির আহমদ ইমন জানান, আমাকে তথ্য দেন বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবিসহ তথ্য পাঠান, সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ঘুমিয়ে পড়লেন চালক, বাস খাদে পড়ে নিহত ৮

ঘুমিয়ে পড়লেন চালক, বাস খাদে পড়ে নিহত ৮

ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কারের দাবিতে দূতাবাস ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম

ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কারের দাবিতে দূতাবাস ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম

গফরগাঁওয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

গফরগাঁওয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

0 Comments