সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির এক সক্রিয় কর্মী। মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বলে তার নিজের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে।
গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাদ্দাম। একই ভিডিওর কমেন্টে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসেও বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্ট্যাটাসে সাদ্দাম জানান, তার পরিবারের বাবা, চাচাসহ বংশের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেকে বিএনপির জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির সাবেক সদস্য, গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী এবং সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলেও জানান।
তবে সৌদি প্রবাসী সাদ্দাম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার পক্ষে আর রাজনীতি করা সম্ভব নয়। রাজনীতি জনগণের সেবা করার মাধ্যম—এমন ধারণা নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনীতি থেকে নিজ সম্মান ও সচেতন সিদ্ধান্তে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বিএনপির প্রতি কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে সাদ্দাম বলেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আজকের পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকবে না। পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সাদ্দাম আরও জানান, রাজনীতি ছিল তার আবেগ ও মানুষের সেবা করার স্বপ্নের জায়গা। রাজনীতির মাধ্যমে সেই সেবা করতে না পারলেও রাজনীতির বাইরে মানবসেবা চালিয়ে যেতে চান তিনি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে হঠাৎ করে রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে সাদ্দাম হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির এক সক্রিয় কর্মী। মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বলে তার নিজের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে। গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাদ্দাম। একই ভিডিওর কমেন্টে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসেও বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্ট্যাটাসে সাদ্দাম জানান, তার পরিবারের বাবা, চাচাসহ বংশের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেকে বিএনপির জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির সাবেক সদস্য, গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী এবং সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলেও জানান। তবে সৌদি প্রবাসী সাদ্দাম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার পক্ষে আর রাজনীতি করা সম্ভব নয়। রাজনীতি জনগণের সেবা করার মাধ্যম—এমন ধারণা নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনীতি থেকে নিজ সম্মান ও সচেতন সিদ্ধান্তে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। বিএনপির প্রতি কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে সাদ্দাম বলেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আজকের পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকবে না। পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাদ্দাম আরও জানান, রাজনীতি ছিল তার আবেগ ও মানুষের সেবা করার স্বপ্নের জায়গা। রাজনীতির মাধ্যমে সেই সেবা করতে না পারলেও রাজনীতির বাইরে মানবসেবা চালিয়ে যেতে চান তিনি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এদিকে হঠাৎ করে রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে সাদ্দাম হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিদিমণি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পর্যন্ত থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে সদর উপজেলা ছাত্রদল। এতে ইয়াছিন আলমকে আহ্বায়ক এবং আব্দুল্লাহ আল বিন মাহিদকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটিতে পদ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সাগর ও তার অনুসারীরা। তারা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে আহতদের নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নবগঠিত কমিটির নেতাদের অভিযোগ, আনন্দ মিছিল বানচাল করতে পদবঞ্চিত পক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। তার দাবি, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোকজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তাদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়। সুধারাম থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি উপজেলা) উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষে ভোটের মাঠে লড়বেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। রোববার (৩০ আগষ্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা দেওয়া হয়। দলের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আব্দুল হাকিম বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। জামায়াত দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রাম করছে। আমরা সব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে দেলোয়ার হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছি। জনগণ যদি সঠিকভাবে তাদের ভোট দিতে পারে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুরের জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারীর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুর রশিদ, পঞ্চগড় জেলা জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর। এ সময় বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ও ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০