কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরে আসার পথে পুলিশের এক সদস্যের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে নগরের বাকলিয়া থানা-পুলিশ। তবে এ ঘটনায় মামলা না করে হাতিয়ে নেওয়া হয় উদ্ধার করা ইয়াবা বড়ি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয় বহনকারীকে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওসি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের করা এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ প্রতিবেদন গত ২৯ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। যাঁর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়, তাঁর সঙ্গে আরেক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে প্রধান করে পুলিশের ওই তদন্ত কমিটি করা হয়।
ঘটনার সময় বাকলিয়া থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন আফতাব উদ্দিন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আট পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হলেও ওসি আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল-আমিন সরকার, এসআই মো. আমির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই জিয়াউর রহমান, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ও কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।
যে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নাম ইমতিয়াজ হোসেন। কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান ছিলেন তিনি। ঘটনার পর তাঁকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ এ ঘটনায় ৯ জুন বাকলিয়া থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা তানভীর আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মামলার সুপারিশ করা হয়। আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গ্রেপ্তার হননি ইয়াবা পাচারে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ওসিকে অভিযুক্ত করে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৬ ধারার বিধান অনুযায়ী মাদকদ্রব্য–সংক্রান্ত অপরাধগুলো আমলযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের পর ওসি মামলা না করে পিআরবির (বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান) ২৪৪ বিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ আইনের ২৯ ধারার অপরাধ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিন ইয়াবা গায়েবের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংরক্ষণ করেননি। অভিযানে থাকলেও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ওসির নির্দেশে ইয়াবা বহনকারীকে ছেড়ে দেন। পরিদর্শক তানভীরের সঙ্গে অভিযানে ছিলেন বাকলিয়া থানার আরও আট পুলিশ সদস্য। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলার সুপারিশ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, মাদক উদ্ধারের অপরাধটি আমলযোগ্য হলেও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে অপরাধ করেছেন। ফৌজদারি মামলা করে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা, আলামত উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও কেন এফআইআর (এজাহার) ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত হয়নি, তা তদন্ত করা উচিত। মাদক গোপনে হস্তান্তর করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে কোনো বেআইনি সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ও জানতে হবে।
যেভাবে আত্মসাৎ করা হয় ইয়াবা
ছয় পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনস্টেবল ইমতিয়াজ কক্সবাজারের মো. মোশাররফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবাভর্তি একটি লাগেজ ঢাকাগামী একটি বাসে করে নিয়ে আসেন। এর বিনিময়ে তাঁকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। দেশ ট্রাভেলসের (ঢাকা মেট্রো ব ১৫-১৬৪২) বাসটি কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু পার হওয়ার পর বাকলিয়া থানার এএসআই সাদ্দাম হোসেন ও সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের এক সোর্স বাসটিতে ওঠেন। তখন তাঁরা বাসে ঘুমন্ত যাত্রী ইমতিয়াজকে জাগিয়ে তোলেন। ওই সময় তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন এবং তাঁর পরিচয়পত্র দেখান। এরপর ইমতিয়াজকে বাস থেকে নামিয়ে পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুই পুলিশ সদস্য এসে বাস থেকে ইমতিয়াজের লাগেজটি পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। ওই সময় বাসের সুপারভাইজার মো. মিজান পুলিশ বক্সে গেলেও এসআই আমির হোসেন তাঁকে বাস নিয়ে চলে যেতে বলেন। তখন চালক মো. সুলতান গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে চলে যান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ বলেন, পুলিশ বক্সে সাদাপোশাকে বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল–আমিন সরকার দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ বক্সের ভেতর ইমতিয়াজের লাগেজটি খোলেন সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের সোর্স। লাগেজ সামান্য খুলে ভেতরে ইয়াবা দেখতে পেয়ে আবার লাগেজের মুখ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ইমতিয়াজ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। পরে ইমতিয়াজের সামনে লাগেজের ভেতর থেকে ইয়াবার প্যাকেটগুলো খোলা হয়। প্রতি প্যাকেটে ১০ হাজার করে ১ লাখ ইয়াবা ছিল।
পরে পুলিশ সদস্যরা সব ইয়াবা নিজেদের দখলে নিয়ে কাপড়চোপড়সহ লাগেজটি ইমতিয়াজকে দিয়ে দেন। তিনি পুলিশ বক্স থেকে বেরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে নগরের অলংকার মোড় বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখান থেকে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশেই ইয়াবা বড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। জানতে চাইলে আফতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি আত্মসাৎ করিনি। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম।’
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল–আমিন সরকার, আমির হোসেন, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, কনস্টেবল ইমতিয়াজের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া এবং আত্মসাৎ করে অপরাধ করেছেন। এ ছাড়া এএসআই সাইফুল আলম, জিয়াউর রহমান, এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল, উম্মে হাবিবা স্বপ্না পুলিশ সদস্যদের অবৈধ কার্যকলাপে সহযোগিতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি মিথ্যাচার করে অপরাধ করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের এবং তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ইয়াবা উদ্ধার, ইয়াবা সরবরাহকারী মোশাররফকে গ্রেপ্তার, তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের সঙ্গে থাকা সাধারণ চেকারদের নাম-ঠিকানা উদ্ঘাটন করতে সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আটজনকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলার সুপারিশও করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। এ ছাড়া বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি ও পরিদর্শক তদন্তকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয় পুলিশ সদর দপ্তরে। এরপর ৯ জুন বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত তানভীর আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানার আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এটির তদন্ত করছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আটজনের বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত চলছে।’
উল্লেখ্য, কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কমিশনার কিংবা পুলিশ সুপার বরখাস্ত করতে পারেন। পরিদর্শককে বরখাস্ত করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
আত্মসাৎ করা এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার না হওয়া এবং নিয়মিত মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য যোগ দেওয়া নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবা গায়েবে এত দিন কেন নিয়মিত মামলা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
পিরোজপুরে এক ব্যক্তির দাফনের জন্য তার মেয়ে ও বোনেরা কবর খুঁড়ছেন। মৃত ব্যক্তি মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ছিলেন।মি. সাঈদীর অনুসারীরা ওই ব্যক্তির দাফনে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তির দাফন রাতের বেলা তার মেয়ে ও বোনদের খোঁড়া কবরে করা হয়েছে।মানিক পশারী শনিবার সকালে গোপালগঞ্জে মারা যান। তিনি ৮৭ বছর বয়সী ছিলেন। তার মরদেহ দাফনের জন্য পিরোজপুরে আনা হয়।দাফনের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ২০১০ সালে গ্রেপ্তার হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। সাক্ষাতে স্পিকার বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংস্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে সুইডেন। সুইডেনের পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুইডেনের এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোর অনেক ক্ষেত্রে চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন করা সম্ভব হলে তা উভয় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণতন্ত্রের প্রতি দেশের মানুষের অঙ্গীকার তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময়ই গণতন্ত্রপ্রেমী। এদেশের মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেনি। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে এদেশের মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের ছাত্রসমাজ এবং আপামর জনসাধারণ সেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। ভবিষ্যৎ সংসদীয় গণতন্ত্র প্রসঙ্গে স্পিকার বলেবন, জনগণ যাতে নিজেদের পছন্দসই দল ও প্রার্থীর পক্ষে স্বাধীনভাবে ভোটদান করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেন। সুইডেনের শাসনব্যবস্থা ও পার্লামেন্টের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে এবং সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট এবং নির্বাচিত সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকে। বৈঠকে তারা উভয়েই দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড় করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও ককাস গঠনের ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশে সুইডিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ বিনিয়োগের আহ্বান বৈঠকে স্পিকার চলমান সংবিধান সংস্কার কমিটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। এছাড়া, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মজুদকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ-তেল ও গ্যাস উত্তোলনে সুইডেনের অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার ও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান স্পিকার। সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন, সুইডিশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। রোববার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা কামনা করেন। বিশেষ করে আমদানিকৃত চাল ও গমের গুণগত মান পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান তিনি। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়াগত বাস্তবতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও গম সংরক্ষণে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান। সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে গম আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম আমদানি সম্পন্ন হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং খাদ্যশস্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।