রাজনীতি

আ. লীগের মতো একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়: জি এম কাদের

রতন লাল জুন ১৫, ২০২৬ 0
আ. লীগের মতো একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়: জি এম কাদের
জি এম কাদের

 

আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আজ সোমবার সকালে রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের মত একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। এত বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রেখে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া কোনভাবেই যাবে না।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগের মত একটি বড় রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না, বরং পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে। মানুষের তাদের সমর্থনে নামবে।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ কমবে। এর ব্যাপক প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার কথা। অথচ বাজেটে এ নিয়ে কোনো কথাই নেই।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এবার যে রাজস্ব আদায় হয়েছে আগামীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য রাজস্ব আদায় আরও অনেক কম হওয়ার জোর আশংকা থাকবে। কাজেই এটি বাজেট বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। দেশি-বিদেশি ব্যাপক ঋণ করেই সরকারকে চলতে হবে। এর ফলে বড় অরাজকতা সৃষ্টি হবে।

জি এম কাদের আরও বলেন, দেশ এক বিশাল সংকটের কালে আছে। দেশে যে একটি বিশাল সংকট চলছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ কারও নেই। রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া এ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনীতি

View more
শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি, কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেব না
শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি, কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেব না

.. ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘আমরা মাঠে তামাশা করতে বা খেলতে নামিনি। আমরা যে দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি—সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবি, হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। তাই আমরা কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে পা দেব না ইনশাআল্লাহ।’ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ঐক্য শুধু ১১ দলের নয়, এটি জনগণের ঐক্য। বাংলাদেশের রূপরেখা ও গতিপথ নির্ধারণ করা, আধিপত্যবাদকে মোকাবিলা ও ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার যে লড়াই—তাতে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ধীরে ধীরে এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে।’ এর আগে সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতা ও মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া’ লংমার্চের প্রস্তুতিমূলক আলোচনার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার ওপর দিয়ে লংমার্চ অতিক্রমকালে কোনো হামলার আশঙ্কা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা সেই আশঙ্কা করি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সজাগ থাকে, তবে এমন কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা আমাদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই পালন করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ মাঠে রয়েছেন। আমরা আশা করি গোপালগঞ্জে বিপুলসংখ্যক ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক জনগণ রাজপথে থাকবেন। যেকোনো দুর্ভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে ইনশাআল্লাহ। গোপালগঞ্জ প্রশাসনকে আমরা বলেছি—তারা যেন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে; কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় সম্পূর্ণ সরকার ও প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।’ মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পূর্বে চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চ পালন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত তৃতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির (তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার) মূল্যবৃদ্ধি রোধ, নির্লজ্জ দলীয়করণ বন্ধ, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো দাবি তোলা হবে। মামুনুল হক আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি, পূর্বের দুটি লংমার্চের মতোই ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে এবং কোনো পক্ষ থেকে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হবে না বলে আশা করি। কোনো অপতৎপরতা দৃষ্টিগোচর হলে তা প্রতিহত করেই লংমার্চ সফল করা হবে ইনশাআল্লাহ।’ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ে ঘোষিত এই লংমার্চে সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সংবাদ মাধ্যমসহ সবার ইতিবাচক ভূমিকা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।  চলমান জাতীয় সংকট প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই সহনশীল কর্মসূচি দিয়ে আসছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, সরকার বিরোধী দলের এই সহযোগিতা গ্রহণে ইচ্ছুক নয় এবং তাদের সেই মানসিকতাও নেই। তাই স্পষ্ট বার্তা—জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হব। সরকারকে আহ্বান জানাব—জনগণের যে আমানত নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন, তাদের মনোভাব অনুধাবন করুন; অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে—এমন আস্থা আমরা রাখতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে, তা উদ্বেগজনক। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আশঙ্কাজনক। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক। ব্যত্যয় ঘটলে আমরা চুপ করে থাকব না, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হব।’ সাম্প্রতিক আইজিপির বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্য অত্যন্ত আতঙ্কজনক ও উদ্বেগের বিষয়। দেশের আইনি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদ থেকে কীভাবে বিচারবহির্ভূত ‘ক্রসফায়ার’-এর মতো বক্তব্য দেওয়া হতে পারে? এতে আমরা স্তম্ভিত ও শঙ্কিত।’ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন ও সফরসঙ্গীদের তালিকা দেখে দেশের মানুষ হতবাক। এমন ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন, যাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব বা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল নেই। রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদন ও ঘোরাঘুরির সফরে পরিণত করা হচ্ছে। দেশ কোথায় যাচ্ছে এবং কারা দেশ চালাচ্ছে—তা নিয়ে জাতির মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঘনাচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধী দলের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান করার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আসন্ন সংসদ অধিবেশনের প্রাক্কালে বিরোধী দল আবার বৈঠকে বসবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।’ ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যাঁরা এ ধরনের অভিযোগ করছেন, তারা বোধহয় সঙ্গে ছিলেন; তাই তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ২৮ অক্টোবর ঘিরে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াতের

লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ২৮ অক্টোবর ঘিরে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াতের

মেয়র পদে আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দিইনি, সমর্থন জানিয়েছি: মীর শাহে আলম

মেয়র পদে আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দিইনি, সমর্থন জানিয়েছি: মীর শাহে আলম

‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’

‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’

ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: গোলাম পরওয়ার
ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: গোলাম পরওয়ার

  ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের চেষ্টা হলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আয়োজনে জেলা স্কুল বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিল মারতে সহযোগিতা করলে কিংবা ভোট গণনার সময় দাঁড়িপাল্লার বান্ডেলে ধানের শীষ দিয়ে গণনা করলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখতে হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে, যেন তিনি পালাতে না পারেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আমরা ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না।’ বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ বিএনপি শেষ করতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। সারের অভাবে তাদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয়স্বজনদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট মাসেই বিএনপি সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। তাদের মাথা ঠিক নেই। ‘এরা এখন জ্বরের মধ্যে ভাবীকে মা বলে ডাকে।’ তার অভিযোগ, সারা দেশে লুটপাটের হাট বসিয়েছে বিএনপি। সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মতো একটি আসন নিতে গিয়ে যেন সরকার বেকায়দায় না পড়ে।’ জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিরোধী দলে থেকেও যে উন্নয়ন করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে যে উন্নয়ন হয়নি, তার চেয়েও বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দীন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে রয়েছেন যারা

ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে রয়েছেন যারা

অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না: চিফ হুইপ

অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না: চিফ হুইপ

নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতেই বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক: রিজভী

নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতেই বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র

  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের ইতিহাসে দেশের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০ অক্টোববর চট্টগ্রাম শহরে পূজার উৎসবে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নগরে সাজ সাজ রব বইছে। তাকে বরণ করে নিতে পুরো চট্টগ্রাম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানকে সাধর সম্ভাষণ জানাব। প্রধানমন্ত্রীর আগমননকে ঘিরে সব আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর জেএম সেন হল পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় চসিক মেয়র বলেন, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের এসে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি জেএম সেন হলের পূজামন্ডপে আসবেন। সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চট্টগ্রামকে একটি সাম্যের শহর, সৌহার্দ্যের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তারই বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন। এ সময় পূজামন্ডপটি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ আজ আনন্দে আত্মহারা। শারদীয় দুর্গা উৎসবে এবার নবমীর দিনে তাদের সঙ্গে সামিল হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষও তাকে একনজর দেখতে মুখিয়ে আছে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। তিনি যেন শান্তিপূর্ণভাবে পূজামন্ডপে এসে চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল প্রমুখ। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম শনিবার সকালে জেএম সেন হল পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছে। পূজামন্ডপটির নিরাপত্তা বাড়ানোসহ সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিভিন্ন প্রবেশ পথে নজরদারি বাড়ানোতে কাজ করছে তারা। একইসাথে বিএনপি বিভাগীয় ও মহানগর নেতারাও কয়েক দফায় পূজামন্ডটটি পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন।  শনিবার সকালে এসআরবি-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল কাজ করে যাচ্ছে। জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এসআরবি। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই উৎসব যেন আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন থাকে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চাই চট্টগ্রামের সকল পূজামন্ডপে ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজা উপভোগ করবেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব শেষ হবে। পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখলে আমরা যেকোন ধরনের অপশক্তিকে প্রতিহত করতে পারব। তিনি জানান, পূজা চলাকালিন সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল, টহল দল নিয়োজিত থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যান্ত জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
‘পেনশন নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি ফিরতে পারবেন না’-ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে তোলপাড়

‘পেনশন নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি ফিরতে পারবেন না’-ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে তোলপাড়

খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন

খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রী একটি উদার রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করছেন: প্রেস সচিব শিবলী

প্রধানমন্ত্রী একটি উদার রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করছেন: প্রেস সচিব শিবলী

0 Comments