“রাশিয়ার কারণেই রাতে ঘুমাতে পারি না।” এমন মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। তার মতে, বর্তমান সময়ে ন্যাটোর জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি রাশিয়াই।
আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন মার্ক রুটে।
তিনি বলেন, “সাধারণত আমি রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু যদি কোনো বিষয় আমাকে জাগিয়ে রাখে, তবে তা হলো রাশিয়া।”
রুটের ভাষায়, চীন দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ালেও বর্তমান এবং দীর্ঘমেয়াদে ন্যাটোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাশিয়া।
তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তাই বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তবে তার মতে, তাৎক্ষণিক হুমকির দিক থেকে রাশিয়াই ন্যাটোর প্রধান উদ্বেগ।
ন্যাটোপ্রধান জানান, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা জোটের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং সামরিক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাও এবারের শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে।
তার আশা, আঙ্কারা সম্মেলন শেষে সদস্য দেশগুলো গত বছরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি তুলে ধরতে পারবে।
ক্লোজিং:
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোপ্রধানের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন সত্যপীর ব্রিজ সংলগ্ন সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভেতরে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—রবীন চন্দ্র (৪৩), পিতা মৃত মন্টু চন্দ্র, সাং পূর্ব হাজীপাড়া এবং মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৫), পিতা মৃত আব্দুল করিম, সাং জগন্নাথপুর। তারা দুজনই ঠাকুরগাঁও সদর থানা ও জেলার বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভেতরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম, দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিন, মোট ৬৪৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। তাঁর বিদায়কে ঘিরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।২৩ আগস্ট (রবিবার) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক, ক্রীড়া ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।সংবর্ধনা শেষে জেলা পরিষদ চত্বরে বের হলে শত শত শুভাকাঙ্ক্ষী করতালি, স্লোগান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় হাবীব আজমকে বিদায় জানান। পরে আবেগঘন শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার আগ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে হাবীব আজম সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর বিদায়ে আবেগ প্রকাশ করে বলেন, পদ-পদবির মেয়াদ শেষ হলেও মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতার কোনো মেয়াদ নেই। ভবিষ্যতেও হাবীব আজম বৃহত্তর পরিসরে জনসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। এ সময় উপস্থিত ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাঁকে ভবিষ্যতে রাঙ্গামাটি পৌরসভা কিংবা ২৯৯ নং রাঙ্গামাটি আসনে নির্বাচনের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে জনসেবায় দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়। ফুলেল শুভেচ্ছা, করতালি ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে শেষ হয় হাবীব আজমের বিদায় সংবর্ধনা।
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:-মোঃ কামরুল ইসলাম, ২০ আগস্ট রাঙ্গামাটির দুর্গম ছোটহরিণা এলাকায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার ছোটহরিণা ব্যাটালিয়ন (১২ বিজিবি) এর উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় হরিণা জোন সদরে এ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জোন কমান্ডার ও ছোটহরিণা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার্স। এসময় তিনি ভূষণছড়া ইউনিয়নের ফারুক-ই-আযম (রাঃ) হেফজখানা ও এতিমখানার ছাত্রদের আহারের জন্য আর্থিক অনুদান, এক পরিবারের বসতবাড়ি মেরামতের জন্য ঢেউটিন, তিনটি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, দুটি স্ট্যান্ডসহ সেলাই মেশিন এবং একটি পরিবারকে সোলার প্যানেল প্রদান করেন। সবমিলিয়ে ১১টি বাঙালি ও ৩টি উপজাতি পরিবারসহ মোট ১৪টি পরিবার এবং ১টি হেফজখানা-এতিমখানার মাঝে ৭০ হাজার ৩০০ টাকা নগদ অনুদান দেওয়া হয়। জোন কমান্ডার বলেন, “বিজিবি শুধু দেশের সীমান্ত রক্ষা নয়, মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেও নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে। ছোটহরিণার মতো দুর্গম পার্বত্য নদী বেষ্টিত এলাকায় হরিণা জোন নিয়মিতভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ছোটহরিণা ব্যাটালিয়ন মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিজিবির এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।