রাজধানীর আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে দোকানে ঢুকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের ধরতে গিয়ে মলার শিকার হয়েছে পুলিশ। ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় তাদের ধারালো চাপাতির কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং স্পটে এখনও পুলিশ অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে আদাবর এলাকায় এক দোকানে ঢুকে চাপাতি ঠেকিয়ে আকস্মিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় একটি চক্র। ঘটনাটি জানার পরপরই অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের একটি আস্তানায় হানা দেয় আদাবর থানা-পুলিশের একটি দল।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে ও কোপে জখম হন ওসি জাহিদুল ইসলাম ও এসআই তরুণ। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এক গুলিবিদ্ধসহ মোট চার ছিনতাইকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের ধরতে এখনও ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো আস্তানা জুড়ে তল্লাশি অভিযান চলমান আছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৪৬৭ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। সোমবার (২৪ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬১৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১১৮ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেই দেশের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ হিসাব করা হয়। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে পাওয়া যায় নিট রিজার্ভের পরিমাণ।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে আজ রোববার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পর্ষদের শুভ সূচনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এবারের নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পদোন্নতির মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সততা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যোগ্য ও পদোন্নতিপ্রার্থী কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাপরায়ণতা ও দূরদর্শিতাকেই পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
কাজের মূল্যায়ন, সমন্বয় এবং কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রিসভায় রদবদল এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে একটি বার্তাও দিতে চেয়েছেন তিনি। সেটি হলো মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন হবে নিয়মিত। সরকারের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় আরও পাঁচ থেকে ছয়টি নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এই দফায় পরিবর্তন এসেছে তথ্য ও সম্প্রচার এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা কারণেই প্রধানমন্ত্রী রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে নতুনভাবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপনের জায়গায় নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। তার জায়গায় গত ছয় মাস ধরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণ মন্ত্রী করে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সদ্যসাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুবিধাসহ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো জানায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স, নির্দেশনা বাস্তবায়ন, সংকটের সময় যোগাযোগ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে অসন্তোষ বাড়ছিল। কয়েকটি নিয়োগ নিয়ে মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়িত হয়নি বলেও সূত্রগুলো জানায়। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর মধ্যে সমন্বয়ে সমস্যার কথাও উল্লেখ করে সূত্রগুলো। সরকার হামের প্রাদুর্ভাব, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের সময় মন্ত্রণালয় থেকে আরও দ্রুত ও ধারাবাহিক যোগাযোগের আশা করেছিল। এ ছাড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও এই মূল্যায়নে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার গঠনের পরপরই আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি নীতিনির্ধারকদের কাছেও নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, জহির উদ্দিন স্বপনের এই নতুন দায়িত্বকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে: প্রধানমন্ত্রী হয়তো তাকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিজের কাছাকাছি রাখতে চেয়েছেন অথবা তার মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স এখানে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, সংকটের সময় সঠিক সময়ে তথ্য সরবরাহ, জনগণকে আশ্বস্ত করা এবং ভুল তথ্য মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়টি পিছিয়ে ছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো জানায়, কাজের পদ্ধতি ও মন্ত্রণালয় পরিচালনা নিয়ে আফরোজা খানম রিতা এবং রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছায়। এরপরই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ গত শুক্রবারের রদবদলের পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে, যার মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের মন্ত্রীর এবং ৫ জন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানকে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও টেকনোক্র্যাট সদস্য হুমায়ুন কবীরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এই মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং রোজকার বিষয়গুলোর দায়িত্ব ভাগ করে দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমান আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম সভাপতি হিসেবে এক বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি আনতে এবং মন্ত্রীকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বে সহায়তার জন্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সাচিং প্রু জেরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত জুনে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পদটি শূন্য ছিল। মন্ত্রিসভার উদ্দেশে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, তারেক রহমান শুরু থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ১৮০ দিন পর সরকারের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, কাজের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া উচিত মনে করেছেন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি। যে যে কাজে দক্ষ, তাকে সেখানেই আনা হয়েছে। অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, এই রদবদল থেকে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেশির ভাগ মন্ত্রীকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান। তবে এর মাধ্যমে তিনি এই বার্তাও দিয়েছেন যে পারফরম্যান্স ভালো না হলে সামনে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানউজ্জামান বলেন, প্রশাসনিক গতি বাড়ানো এবং নতুনদের সুযোগ দেওয়ার জন্যই এই রদবদল। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা যদি এটিকে তাদের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে দেখেন, তবে যারা স্বপদে আছেন এবং যারা নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন—সবার ওপরই ভালো করার চাপ বাড়বে।’