দেশজুড়ে

ধনবাড়ীতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

মাদক-চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়া বন্ধে গুরুত্বারোপ

হোসেন মাঝি আগস্ট ২০, ২০২৬ 0
মাদক-চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়া বন্ধে গুরুত্বারোপ
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

 

 

মো. পলাশ ইসলাম, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথীর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিল-আফরোজ। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম সোবহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক (ভিপি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টু, ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু, কার্যকরী সদস্য মো. পলাশ ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, ছাত্র প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল-কলেজের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ধনবাড়ী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অপরাধ ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট নিরসন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং বন্ধ এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। অপরাধ প্রতিরোধে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সড়কে অবৈধ পার্কিং ও যানজট সৃষ্টিকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং চুরি-ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত শোনা হয় এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

মো: পলাশ ইসলাম 
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল 
মোবা: ০১৯৫৩২৫৫০০৮ 
তারিখ: ২০-৮-২০২৬

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

দেশজুড়ে

View more
যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি
যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি

  মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’র নাম করে তিন থেকে চারটি বড় খণ্ডে কেটে আনা হয়েছে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি। যেটির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।  চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বলা হয়, পৃথক গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলো পুনরায় সংযোজন করলে গাড়ির মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠন করা সম্ভব। ফলে চালানটি সাধারণ ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ নয়, বরং আংশিক সংযোজিত অবস্থায় মোটরযান আমদানির চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।  চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি। বিপরীতে পুরো চালানটি ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং শুল্ক-করসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪। আমদানিকারক ঢাকার গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খুলনার এসটি ইন্টারন্যাশনাল। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে পণ্যগুলো আনা হয়। এনবিআর জানায়, চালানটিতে ১৪ ধরনের পণ্যের মোট ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ঘোষিত পণ্যের মধ্যে ছিল ব্যবহৃত দরজা, ২০০০ সিসি পেট্রোল ইঞ্জিনসহ গিয়ার অ্যাসেম্বল, সাসপেনশন শক অ্যাবসরবার, নোজ কাট, হেড লাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিরিং হুইল, বাম্পার ইত্যাদি। এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মোংলা সার্কেল চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় ঘোষিত আলাদা গাড়ির যন্ত্রাংশের বিপরীতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ব্যবস্থা, সংবেদক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় সামনের কাটা অংশ, সম্পূর্ণ পেছনের কাটা অংশ, সামনের ও পেছনের অংশ কাটা ও ছাদ কাটা প্যানেল এসেম্বল পাওয়া যায়। অর্থাৎ সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে বলে কাস্টমস গোয়েন্দার অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে। শনাক্ত চারটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে—২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০ আই, ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এর মধ্যে রেঞ্জ রোভারের বাংলাদেশি বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বিএমডাব্লিউর ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা, লেক্সাসের ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি এবং টয়োটা ক্রাউনের এর ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাবে, চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে এগুলো আনুমানিক বাজারমূল্য; চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও শুল্ক-কর নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শুল্কায়নের মাধ্যমে হবে। এনবিআর জানায়, চালানটির ইনভয়েস মূল্য ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। ঘোষণায় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২.৭৪৩৩ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ১৯ হাজার ৫৭৭ টাকা ধরে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। এর ওপর শুল্ক-কর দেখানো হয় ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৯৬ টাকা এবং অন্যান্য অর্থসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা। তবে গাড়িগুলোকে পৃথক ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে না দেখিয়ে জিআরআই আইন অনুযায়ী আংশিক সংযোজিত অবস্থায় সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হলে কত শুল্ক-কর প্রযোজ্য হতো, তা এখন নির্ধারণ করা হচ্ছে। গাড়ির প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, বয়স, অবচয় এবং প্রযোজ্য শুল্ক-করসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। আইন অনুযায়ী কোনো পণ্য অসম্পূর্ণ, অসমাপ্ত বা খণ্ডিত অবস্থায় থাকলেও তাতে যদি সম্পূর্ণ পণ্যের ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বিদ্যমান থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়। পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলোর ধরন ও বিন্যাস বিবেচনায় এসব গাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মোটরযানের এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার বিদ্যমান বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
শাস্তির তোয়াক্কা না করে ঢাকার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চেয়ারে বসার মরিয়া চেষ্টা প্রকৌশলী সাজেদুলের

শাস্তির তোয়াক্কা না করে ঢাকার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চেয়ারে বসার মরিয়া চেষ্টা প্রকৌশলী সাজেদুলের

সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯ তলায় তিন সাপ, আতঙ্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯ তলায় তিন সাপ, আতঙ্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে মাদকসহ দুইজন আটক

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে মাদকসহ দুইজন আটক

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বিমানের সব পদোন্নতি স্থগিত
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বিমানের সব পদোন্নতি স্থগিত

  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৌশলী বিভাগে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অসংগতির অভিযোগ ওঠায় সংস্থাটির সব ধরনের পদোন্নতি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত সম্প্রতি গৃহীত সব পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পদোন্নতিসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক কর্মকর্তার করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিমানের প্রকৌশলী বিভাগে একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে ১৫টি অনুমোদিত পদ প্রত্যাহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে নতুন পদোন্নতির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৮ জুন একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) পার্ট-১৪৫ বিধিমালার আওতায় অনুমোদিত জনবল কমিয়ে দেওয়ায় বিমান পরিচালনার নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান রক্ষাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের শেষ দিকে যোগ দেওয়া কয়েকজন কনিষ্ঠ কর্মীকে অস্বাভাবিকভাবে গ্রুপ-৬ পদে পদোন্নতি দিতে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩১ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮জন যোগ্য প্রকৌশলীর পদোন্নতির ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা, লাইসেন্স ভাতা বন্ধ রাখা এবং কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা, বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার ছাড়াই পদোন্নতি দেওয়া, বদলির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পদ শূন্য দেখিয়ে পরে আগের পদে ফিরিয়ে আনা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া, টেকনিক্যাল দায়িত্ব পালন না করেও ভাতা প্রদান, কাগজে-কলমে ভিন্ন পদায়ন দেখানো এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বজনপ্রীতির মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া সাংগঠনিক কাঠামোয় অস্তিত্ব না থাকা পদে বেতন প্রদান, অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অন্য বিভাগে বদলি করা এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগেও বিধিবহির্ভূত পদোন্নতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা তাঁরা পেয়েছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে সম্প্রতি গৃহীত পদোন্নতি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

News আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আত হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আত হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে মাদক সেবন, দুইজনের কারাদণ্ড

ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে মাদক সেবন, দুইজনের কারাদণ্ড

সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযান, চারজন আটক
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযান, চারজন আটক

  রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:   ঠাকুরগাঁও সদর এলাকার সিএনজি স্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদকসহ মো. বাদশা (৪৮), পিতা—মৃত আহেদ আলী; মো. আশিক ইসলাম (২৩), পিতা—মো. সুমন; মো. আতিকুল (২৬), পিতা—মো. মোবারক এবং মো. ফারুক (৩৫), পিতা—মো. জয়নালকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে তাদের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের যথাক্রমে ৩ মাস ও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও 

News আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
গুদামের দরজা ভেঙে ‘১৯৭ বস্তা’ সার নিয়ে গেলেন কৃষক

গুদামের দরজা ভেঙে ‘১৯৭ বস্তা’ সার নিয়ে গেলেন কৃষক

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজমের বর্ণাঢ্য বিদায়

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজমের বর্ণাঢ্য বিদায়

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ

0 Comments