মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ অর্থ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রাত আনুমানিক ০২:০০ টায় মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ চাঁনশিকারী বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। টহল দল সীমান্ত পিলার ২০০/এমপি হতে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, ভোলাহাট থানাধীন চাঁনশিকারী গ্রামস্থ হাউসপুর জামে মসজিদের আম বাগানে অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালীন দলটি ৩ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলেন মোঃ শরিফুল ইসলাম মোশারফ (৩২), পিতা- মোঃ আনারুল হক, গ্রাম- চাঁনশিকারী, থানা- ভোলাহাট। আশরাফুল হক সানাউল (৩৩), পিতা- কছিম উদ্দিন, গ্রাম- আলালপুর, থানা- ভোলাহাট।. মোঃ আমির (২৬), পিতা- আব্দুল লতিফ, গ্রাম- চাঁনশিকারী, থানা- ভোলাহাট।
আটককৃতদের কাছ থেকে ৩৪ পুড়িয়া হেরোইন, ০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ০১টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩,১০৭/- বাংলাদেশী টাকা জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, আটককৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারত হতে চোরাচালানের মাধ্যমে হেরোইন ও ইয়াবা এনে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে আসছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি জানান, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিজিবি’র পক্ষ হতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজিবি’র এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পিস্তলসহ তানভীর আবেদীন জুয়েল (৪১) নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরের দিকে ধানমন্ডি লেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানমন্ডি থানা পুলিশ জুয়েলকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। ৯৯৯–এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, এক কলার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে জানান, এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে তার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর ভুক্তভোগী ছিনতাইকারীদের পেছনে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে এক ছিনতাইকারী রাস্তায় ছিটকে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে পিস্তলসহ আটক করে। খবর পেয়ে ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ধানমন্ডি থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জানানো হয়। ৯৯৯–এর কলটেকার কনস্টেবল মজিবুর রহমান কলটি গ্রহণ করেন। পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. জহিরুল ইসলাম কলার ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন। পরে ধানমন্ডি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পিস্তলসহ তানভীর আবেদীন জুয়েলকে আটক করে। পুলিশ জানায়, জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ধানমন্ডি থানার আরও কয়েকটি টিম এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে একই ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ছিনতাই হওয়া ৩৯ লাখ টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।
সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় বয়স জালিয়াতি এবং পরবর্তীতে প্রবীণদের কল্যাণে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম)’-এ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সদস্যপদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান মহাসচিব ইন্তেজার রহমানের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায় বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় একমাস পূর্বে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হলেও ‘অদৃশ্য’ কারণে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে মুক্তিযোদ্ধা সনদের সুবিধা নিয়ে চাকরি শেষ করা এবং পরবর্তীতে সংস্থার শর্ত ভেঙে মহাসচিবের চেয়ার দখল করার এই ঘটনার সত্যতা পেয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাইগাম কর্তৃপক্ষ। বাইগামের গঠনতন্ত্র ও সদস্য আবেদনপত্রের বিশেষ শর্তাবলির ৫ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে তাঁর আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সদস্যপদ লাভের পরও এ ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে মহাসচিব মো. ইন্তেজার রহমানের ক্ষেত্রে এই নিয়ম তোয়াক্কাই করা হয়নি। বাইগামের সদস্য ফরমে ইন্তেজার রহমান তাঁর জন্মতারিখ উল্লেখ করেছেন ১ মে ১৯৫৬। অন্যদিকে ১৯৭৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি যখন তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগ দেন, তখন সরকারি নথি অনুযায়ী তাঁর জন্মতারিখ দেখানো হয় ১ জানুয়ারি ১৯৫৫ এবং বয়স ছিল ১৮ বছর ১ মাস ২৫ দিন। এই জন্মতারিখ দেখিয়েই তিনি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে ৬০ বছর বয়সে অবসরে যান ও সরকারি সকল ভাতা ভোগ করেন। কিন্তু তাঁর মূল এসএসসি সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ ছিল ১ মে ১৯৫৬। ১৯৭১ সালের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, ১৯৭৩ সালে পুলিশে যোগদানের সময় তাঁর প্রকৃত বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস ২৫ দিন—যা সরকারি চাকরিতে যোগদানের জন্য আইনিভাবে অযোগ্য। চাকরি বাঁচাতে তিনি প্রথমবার বয়স বৃদ্ধি করেন এবং বাইগামে এসে পুনরায় আসল সনদ ব্যবহার করে দ্বিতীয়বার অসত্য তথ্য দেন। এ ছাড়া বাইগামের সদস্য আবেদনপত্রে তিনি নিজেকে 'সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ সরকারি পেনশন বই ও অবসরের দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী তিনি অবসরে যান 'সহকারী পুলিশ সুপার' হিসেবে। জালিয়াতির এই সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এবং দাপ্তরিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ইন্তেজার রহমানের জমা দেওয়া তথ্যের অসঙ্গতি ও জালিয়াতির পূর্ণ সত্যতা পায় এবং তদানুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, ঢাকা সদর কার্যালয়ের উপপরিচালক (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) মো. কামাল হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ ছিল। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়। প্রায় মাসখানেক আগেই রিপোর্টটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তথ্য জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ার পর ইন্তেজার রহমানের সদস্যপদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও বাইগামের বর্তমান সভাপতি বিষয়টির সত্যতা জানার পরও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে মহাসচিব পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর ইন্তেজার রহমান, কোষাধ্যক্ষ এবং কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় সংস্থায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন। সংস্থার একাধিক সাধারণ সদস্যের দাবি—অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তারা ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্তেজার রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। সময়ের কণ্ঠস্বরকে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যাপারে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতির কথাও জানান। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শামসুল হক এ ব্যাপারে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। প্রতিষ্ঠানটি প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের জন্য এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিলম্বে অভিযুক্ত মহাসচিবের সদস্যপদ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম (সাজু)-এর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় ভয়াবহ দুর্নীতি, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং মালামাল না বুঝে নিয়েই ভুতুড়ে বিল পরিশোধের অভিযোগে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক বদলি (Stand Release) করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এক প্রশাসনিক আদেশে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনা জেলায় বদলি করে।** দুর্নীতির মূল অভিযোগসমূহ:**১. ১০০ কোটি টাকার দরপত্রে কারসাজি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল সংস্কার ও শয্যা উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় আসবাবপত্র কেনার নিয়ম ছিল 'গুডস' বা পণ্য সরবরাহ ক্যাটাগরিতে। কিন্তু প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম পিপিআর (PPR) বা সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন করে তা 'ওয়ার্কস' বা নির্মাণকাজ ক্যাটাগরিতে আহ্বান করেন। উদ্দেশ্য ছিল নিজের পছন্দের ও লাইসেন্সবিহীন কিছু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার ২২টি কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া।২. পণ্য ছাড়াই ৪ কোটি টাকার বিল পাস: জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য কোনো আসবাবপত্র সরবরাহ বা বুঝে না নিয়েই, কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র ২ দিনের মাথায় ঠিকাদারকে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় ৪ কোটি টাকার ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করেন তিনি। বদলি ও বর্তমান পরিস্থিতি:এই দুর্নীতির খবর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে আসার পর তোলপাড় সৃষ্টি হলে মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনায় বদলি করে দেয়। পাবনায় দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পেও পদায়িত হন। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটির অনুসন্ধান চালাচ্ছে।