আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে কারা প্রার্থী হবেন, তা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত ও প্রার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি নির্বাচনে দল থেকে একজন মাত্র একক প্রার্থী দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে রিজভী বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই–বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। কারণ, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।
দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিতভাবে পরিচালনা করাই এখন প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন এবং তাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন। নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করার সুযোগ পাবে না। জনস্বার্থের বাইরে বিএনপি কোনো কাজ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে দেশটির গণমাধ্যম এবং সাবেক কূটনীতিকরা একধরনের অস্থির সময় পার করছেন। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান কখন কোন দেশ সফরে যাবেন, তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নিজের। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারণা দেখে মনে হচ্ছে, আমন্ত্রণ জানানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল দৌড়ে সে দেশে যাওয়া। যেমনটি আমরা পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়গুলোতে দেখেছি শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনে বাংলাদেশের ওপর ভারত একধরনের প্রভুত্ব কায়েমের প্রচেষ্টা চালিয়েছে—এটি এ দেশের মানুষের কাছে কোনো অস্পষ্ট বিষয় ছিল না। বাংলাদেশের মানুষের সব ধরনের অধিকার হরণ ও নিপীড়নের পক্ষে ভারতের জোরালো সমর্থন ছিল। জনসমর্থনহীন একটি সরকারকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে দিল্লি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সব ধরনের স্বার্থ আদায় করে নিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার স্বাধীন সত্তা হারিয়ে ফেলেছিল। শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দুই দেশের সম্পর্ককে তুলনা করেছিলেন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সঙ্গে। যেন দুই দেশের মধ্যে কোনো স্বার্থগত সম্পর্ক নেই। ভারত যা চেয়েছে, বাংলাদেশ শুধু তা পূরণ করে গেছে। খোদ শেখ হাসিনা নিজে বলেছিলেন, ‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা চিরদিন মনে রাখবে।’ বাস্তবতা হলো, এ সময়ে বাংলাদেশের ছিল না কোনো স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পড়েছিল দিল্লির সাউথ ব্লকের একটি এক্সটেনশন মাত্র। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ শুধু জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি, পুরোপুরি ভারতনির্ভর একটি দলে পরিণত হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কোনো রাখঢাক না করে সাভারে এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘দিল্লির আছে, আমরা আছি।’ অর্থাৎ জনগণের সমর্থন নয়, দিল্লির সমর্থনই ছিল তাদের ক্ষমতায় থাকার একমাত্র গ্যারান্টি। ভারতের সমর্থনে ক্ষমতা নবায়নের ছয় মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে ভারতের প্রভুত্বের অবসান ঘটে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ভারত নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। হাসিনার দাসত্বের নীতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ শুরু করে। দেড় দশকে বাংলাদেশকে যেভাবে একটি ক্লায়েন্ট স্টেটে পরিণত করা হয়েছিল, সেখান থেকে আত্মমর্যাদার সঙ্গে তার পররাষ্ট্রনীতি সাজাতে থাকে। হাসিনার পতনের চেয়েও বাংলাদেশের এই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ছিল দিল্লির কাছে সবচেয়ে বড় আঘাত। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারত শুধু স্বাভাবিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করেনি, ভারতের গণমাধ্যম, থিংকট্যাংক ও সাবেক কূটনীতিকরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চরিত্র হননের হীন প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। এমনকি পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের চেয়েও ভারতের গণমাধ্যমের মুখগুলো ছিল ড. ইউনূসের প্রতি চরম খড়্গহস্ত। দেশের ভেতরে থাকা ভারতের সফট পাওয়ার হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম ও থিংকট্যাংকগুলো একসময় ড. ইউনূসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকলেও ভারতনীতির কারণে তিনি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। এখনো ড. ইউনূস এসব গণমাধ্যমের প্রধান টার্গেটে হয়ে আছেন। ভারত আশা করেছিল, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর নির্বাচিত সরকার ধীরে হলেও ভারতের স্বার্থপূরণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটি বিষয় বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে—গণঅভ্যুত্থান এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক চিন্তার শুধু পরিবর্তন ঘটায়নি, তাদের মধ্যে স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার আত্মমর্যাদাবোধ ফিরিয়ে এনেছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনভাবে চলার নীতি থেকে বিচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের এই মনস্তত্ত্ব দিল্লির প্রভুত্ববাদীরা কখনো বুঝতে পারবে না। ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতারা ভেবেছিলেন, হাসিনার মতো তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি হয়তো কোনো প্রশ্ন ছাড়াই দিল্লির পথে রওনা হয়ে যাবেন। এ কারণে বিমসটেকের মতো ভারতনিয়ন্ত্রিত একটি আঞ্চলিক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে পলাতক হাসিনাকে দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভারত সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাসিনা এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ যে পুরোপুরিভাবে ভারতের দ্বারা পরিচালিত একটি রাজনৈতিক দল, সে দেশে বসে দলটির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা থেকে তা স্পষ্ট। দণ্ডিত একজন অপরাধী ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, দিল্লি সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ভারতে পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধীদের ফেরত চাওয়া হয়। বাংলাদেশ এখন দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় আছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তিনি ভারত সফরে যাবেন। এরপর থেকে আমরা দেখছি, ভারতের গণমাধ্যম ও সাবেক কূটনীতিকরা বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় মেতে উঠেছেন। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দেশে থাকা আওয়ামী প্রচারবিদরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল আমন্ত্রণ পাওয়া মাত্র দিল্লি সফরে যাওয়া। যেমনটি হাসিনা করতেন। বাংলাদেশের সুবিধামতো সময়ে সফরে যাওয়ার কথা বলে ভারতকে নাকি অপমান করা হয়েছে। আগামী এক বছরেও আর মোদির সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, ভারতীয়রা ভয় দেখাচ্ছেন, ভারত যদি ডিজেল আর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তখন বাংলাদেশের কী হবে? তারা ভুলে গেছেন, বাংলাদেশকে কোনো কিছুই ভারত বিনা পয়সায় দেয় না। প্রতিটি পণ্য কিনে নিতে হয়। ভারত থেকে বাংলাদেশ যে ডিজেল কিনে থাকে, তা মোট চাহিদার দশ ভাগের এক ভাগেরও কম। বাংলাদেশ আরো অনেক দেশ থেকে ডিজেল কিনে থাকে। অন্যদিকে, ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনা নিয়ে এ দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। আজকে বিদ্যুৎ খাতে যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তার প্রধান কারণ ক্যাপাসিটি চার্জসহ অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ কেনার কারণে। আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করা হয়েছিল মোদি সরকারকে ঘুস দেওয়ার অংশ হিসেবে। এ ছাড়া, ত্রিপুরায় পালাটানায় ভারত যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে, তার যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের তিতাস নদ ভরাট করে রাস্তা তৈরি করে। এসব যন্ত্রপাতি আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে বিনাশুল্কে ভারতে নেওয়া হয়েছিল। ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় নতুন এক ইস্যু তৈরি হয়েছে ত্রিদেশীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। এ নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আর গণমাধ্যমের যেন ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নতুন যে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, তাতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশকে কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের পক্ষ থেকে রিয়াদ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে বর্তমান সরকার। বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা ফ্রেমওয়ার্কে যুক্ত হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। ভারতের সঙ্গে কোন দেশের সম্পর্ক কেমন, তা বিবেচনা করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি চলতে পারে না। ত্রিদেশীয় জোটে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে যদি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, তাহলে নিশ্চয়ই বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান বা তুরস্কের সম্পর্ক খারাপ আছে বলে বাংলাদেশ এসব দেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জোটে যোগ দিতে পারবে নাÑদিল্লির এমন আশা করা উচিত নয়। সার্কের মতো একটি সহযোগিতামূলক সংস্থাকে অকার্যকর করে ভারত প্রমাণ করেছে আঞ্চলিক যেকোনো জোটে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যতা ভারতের নেই। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয় ক্ষুদ্র স্বার্থের ভিত্তিতে। যেকোনো জোট গঠন ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যে উদার নীতির প্রয়োজন, তা ভারতের নেই। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানকে পরিত্যাগ করে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে, তা থেকে প্রমাণ হয় দেশটি তার মিত্রদের কাছে কতটা অবিশ্বস্ত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে দিল্লিতে যে বাংলাদেশবিরোধী শোরগোল চলছে, তা মূলত শেখ হাসিনা আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রভুত্ব হারানোর বেদনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শুধু হাসিনার পতন হয়নি, বাংলাদেশের ওপর দিল্লির আধিপত্যেরও পতন হয়েছিল। এখন তারেক রহমানের সরকারের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে পুরোনো অবস্থা ফিরে আনতে চাইবে ভারত। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে যে আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে, তা থেকে সহজে আর সরে আসবে না। তারেক রহমানের সরকারের সে উপলব্ধি আছে বলে মনে হয়।
চ্যালেঞ্জ থাকলেও আগের নির্বাচনের চেয়ে আরও ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ’স লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনস’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন এসময় নির্বাচন কমিশনারগণ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের আগের নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তার নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। বরং সম্ভব হলে আরও উন্নত করা হবে। এখন আশা করছি সবার কো-অপারেশন নিয়ে আমরা ভালো নির্বাচন করতে পারব, কোনো অসুবিধা হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন কবে হবে, সেই দিনক্ষণ এখনই বলা যাবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার জন্য আমরা কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতেছি। এজন্য এটা একটু সময় লাগবে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ শেষ করে তা মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচন আয়োজন শুধু নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতিও প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভিন্ন প্রকৃতির এবং অতীতে এসব নির্বাচনে সহিংসতা তুলনামূলক বেশি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখানে ভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বটা একটু বেশি থাকবে। আশা করি আমরা সবাইকে নিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সময় দুর্গাপূজা, বর্ষা ও বন্যার সম্ভাবনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগের মতো বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। এসব বিষয় সমন্বয় করে উপযুক্ত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হবে। তবে নির্বাচন অযথা বিলম্বিত হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ৯০ দিনের মধ্যে এটা হয়ে যাবে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বঙ্গভবনে উঠেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন তিনি। বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে তিনি শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ১৯৯১ সালের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।