শিক্ষা

অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার

হোসেন মাঝি আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার
ভেদরগঞ্জে মাদ্রাসার

 


শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে । সম্প্রতি এমন অভিযোগ তুলেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন।


ইতোমধ্যে মাদ্রাসাটির এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগষ্ট মাস থেকে সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানের আয়ব্যয়ের হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না। একাধিকবার তার কাছে হিসেব চাইলে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান দেই দিচ্ছি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর ২০২৫ সালে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন মাদ্রাসাটির সহকারী গ্রন্থাগারিক খালিদ বিন সাঈদ, সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী আব্দুল আজিজকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি অডিট ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝিয়ে দিতে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান তদন্ত কমিটির কাছে একমাস সময় চেয়ে নেন। এরপর একমাস পেরিয়ে বছর হলেও তিনি অডিট কমিটির কাছে হিসেব বুঝিয়ে দিতে পারেন নি। পরে মাদ্রাসার সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝে পাওয়ার আগে কোন কাগজে সাক্ষর করবে না বলে জানান। এরপর গত ২০ আগষ্ট অগ্রণী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার হিসাব নাম্বার ০২০০০০১৪০০৯২৯ সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসাটির সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বেতন বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেন। টাকা তোলার পর ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নান ওই টাকা নিজে ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করে আত্মসাৎ করেন। প্রথমে সাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা উত্তলনের প্রমাণ দেখানে তিনি টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে থানায় ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন এডহক কমিটির সভাপতি। এমন ঘটনার পর মাদ্রসা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসায় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


এবিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক টিউলিজ রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে সবসময় খারাপ আচরণ করেন। তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। মাঝে মধ্যেই তিনি বেতন নিয়ে ঝামেলা করে। বেতন আমাদের একাউন্টে ঢুকছে না কেনো,এমন প্রশ্ন করা হলে সুপার বলেন সভাপতি সাক্ষর দিচ্ছে না তাই বেতন পাচ্ছি না। গত মাসে আমাদের বেতন উত্তলন করে নিজের একাউন্টে রেখে দিছে। পরে শুনতে পারি সভাপতির সাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসা সুপার টাকা উত্তলন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আমাদের একাউন্টে ট্রান্সফার করে। তিনি দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে আমাদের সাথে যেই কাজ করেছে আমরা এই সুপারের বিচার দাবি করছি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

শিক্ষা

View more
অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার
অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার

  শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে । সম্প্রতি এমন অভিযোগ তুলেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন। ইতোমধ্যে মাদ্রাসাটির এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগষ্ট মাস থেকে সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানের আয়ব্যয়ের হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না। একাধিকবার তার কাছে হিসেব চাইলে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান দেই দিচ্ছি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর ২০২৫ সালে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন মাদ্রাসাটির সহকারী গ্রন্থাগারিক খালিদ বিন সাঈদ, সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী আব্দুল আজিজকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি অডিট ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝিয়ে দিতে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান তদন্ত কমিটির কাছে একমাস সময় চেয়ে নেন। এরপর একমাস পেরিয়ে বছর হলেও তিনি অডিট কমিটির কাছে হিসেব বুঝিয়ে দিতে পারেন নি। পরে মাদ্রাসার সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝে পাওয়ার আগে কোন কাগজে সাক্ষর করবে না বলে জানান। এরপর গত ২০ আগষ্ট অগ্রণী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার হিসাব নাম্বার ০২০০০০১৪০০৯২৯ সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসাটির সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বেতন বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেন। টাকা তোলার পর ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নান ওই টাকা নিজে ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করে আত্মসাৎ করেন। প্রথমে সাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা উত্তলনের প্রমাণ দেখানে তিনি টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে থানায় ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন এডহক কমিটির সভাপতি। এমন ঘটনার পর মাদ্রসা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসায় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক টিউলিজ রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে সবসময় খারাপ আচরণ করেন। তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। মাঝে মধ্যেই তিনি বেতন নিয়ে ঝামেলা করে। বেতন আমাদের একাউন্টে ঢুকছে না কেনো,এমন প্রশ্ন করা হলে সুপার বলেন সভাপতি সাক্ষর দিচ্ছে না তাই বেতন পাচ্ছি না। গত মাসে আমাদের বেতন উত্তলন করে নিজের একাউন্টে রেখে দিছে। পরে শুনতে পারি সভাপতির সাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসা সুপার টাকা উত্তলন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আমাদের একাউন্টে ট্রান্সফার করে। তিনি দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে আমাদের সাথে যেই কাজ করেছে আমরা এই সুপারের বিচার দাবি করছি।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
পবিপ্রবিতে সিরাতুন্নবী (সা:)-২০২৫ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ

পবিপ্রবিতে সিরাতুন্নবী (সা:)-২০২৫ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ

বিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্ত

বিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপিত হলো ২১ এসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপিত হলো ২১ এসি

স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের পড়ালেখা ফ্রি করবে সরকার: ডা. জুবাইদা
স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের পড়ালেখা ফ্রি করবে সরকার: ডা. জুবাইদা

  নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। ডা. জুবাইদা বলেন, নারীদের সমতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন,  ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে। এছাড়া, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর করে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিএনপি সরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার একসঙ্গে কাজ করে সমতা ও সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন ড. জুবাইদা রহমান। একই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা করছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি জুলাইকে জনগণের যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।  তিনি বলেন, জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে অনেক চিকিৎসক শপথ ভঙ্গ করেছেন। রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হওয়া চিকিৎসকদের শনাক্ত করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের শহীদের সংখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং প্রতিটি শহীদের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায়।  

News আগস্ট ৯, ২০২৬ 0
আ.লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে: সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আ.লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে: সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অবরোধ, স্থবির রাজধানীর একাংশ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অবরোধ, স্থবির রাজধানীর একাংশ

২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলবে
২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলবে

  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। রাজধানীর কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সম্প্রতি ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের আওতাধীন বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসুক। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।’ ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য সব ধরনের বিদ্যালয়ের জন্য একটি ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড’ বা ন্যূনতম শিক্ষাগত মান নির্ধারণ করা হবে। এর আওতায় ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলা পাঠ এবং বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোচিং বাণিজ্যের কড়া সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোচিং বাণিজ্য চাই না। শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায়। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের ভেতরেই অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’-এ রূপান্তর করা সম্ভব হলে আলাদা আইটি ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি স্থাপনে উদ্যোগ নিলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সভায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোকে জাতীয় বাজেটের আওতায় আনা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং শিক্ষকদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো যাবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও করের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিদ্যুৎ বিল মওকুফের বিষয়ে তিনি বলেন, সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে খাতা-কলম বিতরণ এবং ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা চালুর কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষকদের জন্য ‘মাইক্রো ট্রেনিং’ কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়া শিক্ষকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি ‘কমপ্লেইন সেল’ চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। মতবিনিময় সভায় ঢাকা-১৩ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, দাবি ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
পবিপ্রবির বিজয়-২৪ হলে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

পবিপ্রবির বিজয়-২৪ হলে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

কেন্দ্রের ২০০ গজে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ

কেন্দ্রের ২০০ গজে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ

বাংলা সাহিত্যে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধ, থাকবে ওসমান হাদীর বীরত্বগাথাও!

বাংলা সাহিত্যে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধ, থাকবে ওসমান হাদীর বীরত্বগাথাও!

0 Comments