রাজনীতি

পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে থাকবে র‌্যাব, হচ্ছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Jamil Saxona মে ১৮, ২০২৬ 0
পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে থাকবে র‌্যাব, হচ্ছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

 


জননিরাপত্তা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স লাগবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটা এডহক ভিত্তিতে র‍্যাব পরিচালিত হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। তাই এখন র‍্যাবের জন্য আইন করা হচ্ছে।

আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দফতরে র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা বাহিনী থাকবে। নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। আমরা র‍্যাবের নাম আবার রিনেম করবো কিনা বা অন্য নতুন এলিট ফোর্স আমরা রেইজ করবো কিনা সেটা এখনো চিন্তাভাবনার বিষয়, সরকার বিবেচনা করছে। তবে সব ক্ষেত্রেই ফোর্সের ক্ষেত্রেই আমরা জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা, ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি আমরা এনশিওর করবো। 

তিনি বলেন, অথরিটি থাকবে রেসপন্সিবিলিটি থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি নিশ্চিত করা হবে, সেই একই আইনে। সেভাবে আমরা আগামীতে আইনের শাসন চেষ্টা করবো এবং জননিরাপত্তা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সেটা হবে ইনশাল্লাহ।

র‍্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাবের বিরুদ্ধে আমেরিকার আমেরিকা একটি স্যাংশন দিয়েছে। তো সেই স্যাংশন উইথড্র করতে আপনাদের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কিনা? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে র‍্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না বিগত পতিত শাসন আমলে যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে। 

‘কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড পুরো প্রতিষ্ঠান দায় দায়িত্ব নিতে পারে না। আমরা এখন যার যার নিজস্ব আইনে সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে সেই সব অফিসারদেরকে অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং বিচারের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। কারণ প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আইন আছে। প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে কর্মকর্তারা কীভাবে সে আইন মেনে চলবে, পরিচালনা হবে। যদি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী বিপথগ্রস্ত হয় বা বিপথে যায় তারা পার্সোনালি দায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি। ঠিক আমেরিকা যে সময় র‍্যাবের উপরে স্যাংশন দিয়েছিল সেই সময় র‍্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের যারা দণ্ডমণ্ড ছিলেন শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য যে উগ্রবাসনা তাদের ছিল সেটা কায়েমের জন্য। এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। সেই কারণে র‌্যাবের উপরে যে স্যাংশনটা আমেরিকা ইমপোজ করেছে। সেটা এখনো বহাল। কিন্তু আমরা যদি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা নতুন কোর্স রিনেম করি বা রেইজ করি সেখানে হয়তো তারা বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ করা যায় যে এখন অনেক কিছু বাকি আছে। দেখা যাক।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা আইন ফ্রেম করার জন্য কমিটি করে দিয়েছি এবং সেই আইনটা আমি নিজে করবো এবং সেই আইনটা আমার সামনে এখনো আসেনি। আমি কিছু সময় দিয়েছি। সেখানে বিশ্লেষণ করার কাজ করছি। বর্তমানে র‍্যাব যে আইনি পরিচয় হচ্ছে সেটা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা সার্ভিস প্রফেশনের উপরে দাঁড়িয়ে পরিচালিত হয়। এটা এডহক ভিত্তিতে চলেছে। একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে এডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন আমরা সেটা আইন করবো আলাদা এনফোর্সের জন্য। সেখানে অথরিটি দেওয়া থাকবে। তাদের রেসপন্সিবিলিটি ফিক্সড করা থাকবে এবং সেই ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিতা অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি এবং ট্রান্সপারেন্সি দেওয়া নিশ্চিত হবে। সেই হিসাবে আইনটা আসবে। এখনো ডিটেইলস বলার সময় আসেনি।

তিনি বলেন, এখন যেভাবে চলছে একটা ধারার অধীনে, সেটা তো আজকে না, সেটা আরো ১০/১২ বছর আগে থেকে হয়েছে এবং সেটা আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পরে দেখলাম যে, সেটা ঠিক না। একটা বাহিনী প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন করা থাকবে, সেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকবে। সেই হিসাবেই অন্যান্য বাহিনী থাকবে। কিন্তু এই একটা নয়। তাই আমরা এখন সংশোধন করবো, নতুন প্রত্যাশা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স দরকার হবে। তাদের যে ইকুইপমেন্টস লজিস্টিক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিস, অ্যাসেটস সবকিছু সেখানে যাবে।

রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে র‍্যাবকে ব্যবহার করা হয়েছে। র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারাও বলেছেন যে তারা এভাবে কারো হাতিয়ার হতে চান না। আপনার সরকার সামনে নতুন যে এলিট ফোর্স নাম পরিবর্তন করে যে বাহিনীটা আসবে তাদেরকে যে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মর্নিং সোজ দ্য ডে। তিন মাস হয়েছে। র‍্যাব কি ব্যবহৃত হয়েছে? পুলিশ ব্যবহৃত হয়েছে? অন্য কোনো বাহিনী ব্যবহৃত হয়েছে? পলিটিক্যাল উদ্দেশ্যে হয়েছে? সুতরাং মর্নিং শোজ দ্য ডে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গুম সংক্রান্ত কমিশন গঠন ও ইনকোয়ারি করা হয়েছিল। সেখানের যে ফাইনাল রিপোর্টে উঠে এসেছিল র‍্যাব এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে যে একটা মিলিটারি ইন্টার্নাল ইনকোয়ারি বোর্ড হয়েছিল সে বোর্ডটা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে। যে বোর্ডটা বন্ধ হয়ে গেল তদন্তের জায়গা থেকে যারা আসলো, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কীভাবে হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আপনার কোয়েশ্চনটা সঠিক নয়। ইলিয়াস আলীর ওয়াইফ আইসিটি কোর্টে মামলা করেছেন। আমিও মামলা করেছি। আইসিটি কোর্টের একটা আইন আছে। সেই আইনটা সবচাইতে শক্ত আইন। গুম কমিশন যে করা হয়েছিল সেখানে কোনো সুনির্দিষ্টকরণ ছিল না। আইসিটি আইনের মধ্যে যদি আমরা সেই এমেন্ডমেন্টগুলো নিয়ে আসতে পারতাম, এখনো যেটা আমরা চেষ্টা করছি। তাহলে সব ধরনের গুমের বিচার ওখানে হবে। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত আসে নাই। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত এসেছে। কেউ গুমের হুমকি পেয়েছে। কেউ গুমের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ডেফিনেশন ওখানে আসতে পারবে। বিভিন্ন রকমের মেজারস নিয়ে যেতে পারবে। একটা কমিশন হলো সেখানে শুনানি হবে, মেজারস হবে না। অন্য একটা অথরিটি সেটা তদন্ত করবে। সেই অথরিটি আবার মামলা করবে। আমি ব্যক্তি হিসেবে ভিকটিম হলে আমি মামলা করতে পারবো না। এসব ডিবেটগুলো তো ছিল। আইনকানুনের ব্যাপার। এর চাইতে বেশি আইন বলা হতে পারবে না।

র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও র‍্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনীতি

View more
মনোনয়নপত্র বৈধ, এমপি হচ্ছেন এলিজা জামান
মনোনয়নপত্র বৈধ, এমপি হচ্ছেন এলিজা জামান

  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এলিজা জামান একক প্রার্থী হওয়ায় তার নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। নির্বাচনী তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে নির্বাচন কমিশন। গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। ওই শূন্য আসনে বিএনপি এলিজা জামানকে প্রার্থী করে। গত সোমবার তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এলিজা জামান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাকি ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। নির্বাচনে দল বা জোটের পাওয়া আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি, কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেব না

শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি, কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেব না

লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ২৮ অক্টোবর ঘিরে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াতের

লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ২৮ অক্টোবর ঘিরে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াতের

মেয়র পদে আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দিইনি, সমর্থন জানিয়েছি: মীর শাহে আলম

মেয়র পদে আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দিইনি, সমর্থন জানিয়েছি: মীর শাহে আলম

‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’
‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’

  চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবিধান মেনে করা হয়নি বরং সংবিধান খেলাপ করেই হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, তা গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে হয়েছে। ১০৬ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক প্রতারণা মেনে এই সরকার গঠিত হয়নি। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির অনেক বুদ্ধিজীবী হয়েছেন—যাদের আমরা আগে চিনতাম না—তারা মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রথমত, তারা বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হরফে হরফে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা বলেন, গণভোটের ভাষা অনেক কঠিন, যা সাধারণ মানুষ বোঝে না। এই দুটি যুক্তির মধ্যেই একটি জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। সরকারি দলের এই রাজনৈতিক প্রতারণা আমাদের জাতির কাছে পরিষ্কার করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও বিপ্লব—কোনোটিই সংবিধানের ধারা-উপধারা মেনে হয় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও সংবিধান খেলাপ করেই করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার পুরোপুরি গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে।’ ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে পুরো বিতর্কটিকে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দিন শেষে বিপ্লবের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সরকার যে দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে, বুঝে হোক বা না বুঝে, তার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, শপথ ও সরকার গঠন অবৈধ হয়ে যায়—যা আবার বিএনপি মেনে নিতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘কেবল নিজেদের সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু ন্যায্য, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের ততটুকুকে হালাল ও জায়েজ বলছে। বিএনপি এই যে প্রতারণা করছে, শেষ পর্যন্ত তা তাদের নিজেদের শাসনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’  

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: গোলাম পরওয়ার

ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: গোলাম পরওয়ার

ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে রয়েছেন যারা

ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে রয়েছেন যারা

অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না: চিফ হুইপ

অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না: চিফ হুইপ

নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতেই বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক: রিজভী
নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতেই বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক: রিজভী

  নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনের নামে নতুন নাটক করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশ যখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন গঠনমূলক ভূমিকা না রেখে বিরোধীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশজুড়ে পরিকল্পিত নৈরাজ্য ও চক্রান্তের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়, বিরোধী দলগুলোর কেবল ‘নাই নাই’ জিকির। দেশের উন্নয়ন কিংবা জনগণের কল্যাণে তাদের কোনো নজর নেই। নিজেদের দলীয় দ্বন্দ্ব আড়াল করতেই তারা রাজপথে নামার নতুন নতুন বাহানা খুঁজছে এবং নানা কর্মসূচির নামে নাটক সাজাচ্ছে।’ স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতির কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্যায় ও অপশাসন চালিয়ে কোনো শাসকই শেষ রক্ষা করতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ রাজপথে জেগে উঠলে অপরাধী শাসকদের পালিয়ে যেতে হয়। এ দেশেও জোর করে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরাচারী শক্তিকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসব যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সে জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে দলের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন।’ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। বেইমানি ও হত্যার রাজত্ব এ দেশে আর চলতে দেওয়া হবে না। আইন ও আদালতের মাধ্যমে সব অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন মিশু, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জাহানারা সিদ্দীকা, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের নেতা রকিবুল ইসলাম, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কাজী সাখাওয়াত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তাওহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র

‘পেনশন নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি ফিরতে পারবেন না’-ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে তোলপাড়

‘পেনশন নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি ফিরতে পারবেন না’-ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে তোলপাড়

খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন

খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন

0 Comments