জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং আন্দোলনের দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে একপাশে সরিয়ে রেখে বর্তমান সরকারের উদাসীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তৎকালীন গণহত্যার বিচার সংশ্লিষ্ট বিশেষ সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের স্বৈরশাসনবিরোধী লড়াইয়ের একটি চূড়ান্ত ফসল। এই দীর্ঘ সময়ে যারা গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন কিংবা বুকের ভেতর ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বুলেটের স্প্লিন্টার নিয়ে পঙ্গু হয়ে আজীবন ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন, তাদেরকে ভুলে যাওয়া নিজেদের আত্মার সঙ্গে চরম ও নিকৃষ্টতম বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। মুখে মুখে জুলাইয়ের গল্প ফেঁদে বাস্তবে যারা ক্ষমতার ফসল ঘরে তুলেছেন, তারা আজ পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে বাধ্য করছেন।
সংসদে ড. শফিকুর রহমান সময়ের বণ্টন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি দল ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের ইতিহাসের চরম বিকৃতির জবাব দেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের কোনো কোনো দায়িত্বশীল সদস্য ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জোটের ইতিহাস না জেনে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞের মতো অসত্য তথ্য উপস্থাপন করছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সাবেক ও বর্তমান সরকারের ভূমিকার একটি চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সদ্য সাবেক সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছিল। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের এত বড় বড় কথা বলার পরও আজ অসংখ্য আহত ও পঙ্গু মানুষ চিকিৎসার জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তিনি বর্তমান সরকারকে দোষারোপের নোংরা ও সস্তা রাজনীতি পরিহার করে অতি দ্রুত এসব আহত ও বীর যোদ্ধাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়ার জোরালো দাবি জানান। প্রয়োজনে এই বীর সন্তানদের পুনর্বাসনের জন্য দেশের সব সংসদ সদস্যের সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা কর্তন করার সাহসী প্রস্তাব দিয়ে তিনি নিজের সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা প্রথম বাতিল করার প্রকাশ্য ঘোষণা দেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের চরম সমন্বয়হীনতা ও ধীরগতির তীব্র সমালোচনা করে জুলাই জাদুঘর এখনো বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরের কাজ শেষ হয়নি, এই ঠুনকো অজুহাতে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় স্মারক কেন মাসের পর মাস বন্ধ রাখা হয়েছে তা জনগণের কাছে অস্পষ্ট। সংস্কার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি চলতে চলতেই মানুষের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত করা যেত। তাই কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে জুলাই জাদুঘরটি জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি তাগিদ দেন। একই সঙ্গে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মতো সংবেদনশীল ও অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিগত পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও গতিশীল ও প্রাণবন্ত করার দাবি জানান।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও গণহত্যাকারীদের বিষয়ে বর্তমান সরকারের আপোষকামী বা নমনীয় সুরের কড়া সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারে কোনো ধরনের টালবাহানা, ধীরগতি বা গড়িমসি এ দেশের কোটি জনতা কখনোই বরদাশত করবে না। যদি ক্ষমতার কোনো অপশক্তির কারণে এই ঐতিহাসিক বিচারে কোনো অবহেলা বা গড়িমসি করা হয়, তবে হাশরের ময়দানে তিনি নিজে এই গাফেলদের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান বাদী হিসেবে দাঁড়াবেন। তবে বিচারের নামে যেন নির্দোষ কোনো মানুষের ওপর অন্যায় ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক অবিচার করা না হয়, সেদিকেও তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
একই সঙ্গে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও রক্তপিপাসু সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারের মেরুদণ্ডহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে সমস্ত ফ্যাসিস্ট মিডিয়া তৎকালীন স্বৈরাচারকে আরও বেশি উগ্র ও রক্তপিপাসু হতে ইন্ধন জুগিয়েছিল, তারা আজ আবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য ময়দানে নেমে চরম রাষ্ট্রদ্রোহী কথাবার্তা বলছে। কোন অদৃশ্য শক্তির আশকারা ও খুঁটির জোরে এই রাষ্ট্রদ্রোহীরা এত সাহস পাচ্ছে এবং সরকারের আসল দুর্বলতাটা ঠিক কোথায়, তা অবিলম্বে ১৮ কোটি মানুষের সামনে পরিষ্কার করার জন্য তিনি দাবি জানান।
দেশের সীমান্তে চলমান অস্থিরতা ও প্রতিবেশী দেশের উস্কানিমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নতজানু ও রহস্যজনক নীরবতার তীব্র সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, অথচ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনও পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে কোনো কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়নি। এ সময় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এই দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির সার্বভৌমত্ব ও প্রতিটি বালুকণার পাহারাদারি দেশের ১৮ কোটি জনগণ এক হয়ে বুক দিয়ে করবে।
বক্তব্যের শেষ অংশে ঐতিহাসিক ১৪ জুলাইকে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের সব দায়িত্বশীল নেতাদের কথা বলার ক্ষেত্রে আরও বেশি সংযত ও কেয়ারফুল হওয়ার অনুরোধ করেন। অতি সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর দুঃখ প্রকাশ করাকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যতে যাতে সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখ থেকে আন্দোলনের চেতনা ক্ষুণ্নকারী কোনো অসতর্ক মন্তব্য না আসে, সে ব্যাপারে সতর্ক করেন।
সবশেষে একটি নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে ও অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য অতীতে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের রায়কে পাস কাটিয়ে কেন বারবার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের রায়কে সম্মান না জানালে এ দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান অচিরেই ধ্বংসের মুখোমুখি হবে এবং এর পুরো দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়া ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তিনি অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন। এই ঘটনায় তার গাড়িচালক বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আঠারো বারের মত পিছিয়ে আগামী ২০ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (১৫ জুলাই) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওইদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।
কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে শুরু থেকেই সরকার রয়েছে এবং কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চাহিদা বিবেচনায় প্রতিটি উপজেলায় অতিরিক্ত ত্রাণ ও নগদ সহায়তা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, সড়ক, সেতু-কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পাহাড় কাটা ও দখলের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলেও জানান তিনি।